যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামানের সম্পদ ‘ফ্রিজ’

আপডেট : ১২ জুন ২০২৫, ০৫:৪২ এএম

বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্যে থাকা সম্পদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির জাতীয় অপরাধ দমন সংস্থা (এনসিএ)। এ পদক্ষেপের ফলে সাইফুজ্জামান তার সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না। আলজাজিরার তদন্ত ইউনিট (আই-ইউনিট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সাধারণত কোনো ব্যক্তি কোনো মামলা বা তদন্তের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার সম্পদ ফ্রিজ করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের সম্পদ বিক্রি বা ব্যবহার করতে পারবে না, তবে মালিকানা তাদের কাছেই থাকবে। অন্যদিকে কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার সম্পদ জব্দ করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে, আদালত বা অন্য কোনো কর্র্তৃপক্ষ তার সম্পদ বিক্রি করে অথবা অন্য কোনো উপায়ে ব্যবহার করতে পারে।

আলজাজিরা বলছে, বাংলাদেশের কর্র্তৃপক্ষের আইনি অনুরোধের ভিত্তিতে এনসিএ এ ব্যবস্থা নিয়েছে। সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তদন্ত চলছে। এনসিএর এক মুখপাত্র আলজাজিরাকে বলেন, চলমান একটি সিভিল তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা বেশ কয়েকটি সম্পত্তির ওপর জব্দ আদেশ জারি করেছি। এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে লন্ডনের সেন্ট জনস উডে সাইফুজ্জামানের ১১ মিলিয়ন পাউন্ড (১৪৮০ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের বিলাসবহুল বাড়িটিও রয়েছে।

গত বছর আলজাজিরার তদন্তে উঠে আসে, ৫৬ বছর বয়সী সাইফুজ্জামান যুক্তরাজ্যে ৩৫০টির বেশি সম্পত্তির মালিক। এ ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি, যুক্তরাষ্ট্রে ৭টি বাড়ি ও ফ্ল্যাট এবং যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটটি ব্যাংক হিসাবের মালিক। এ সম্পত্তি ও হিসাবে মোট ১ হাজার ২২০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে, যার মধ্যে ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

আলজাজিরার গোপন তদন্তে সাইফুজ্জামানের সেন্ট জনস উডের বাড়িতে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। তদন্তকালে তিনি সাংবাদিকদের কাছে তার বিশ্বব্যাপী সম্পত্তির বিস্তার, বিলাসবহুল স্যুট ও ডিজাইনার ‘বেবি ক্রক’ চামড়ার জুতার প্রতি আগ্রহ এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা প্রকাশ করেন।

তদন্তে আরও উঠে আসে, বাংলাদেশের মুদ্রা আইনে বছরে ১২ হাজার ডলারের বেশি অর্থ দেশের বাইরে নেওয়ার সীমা থাকলেও সাইফুজ্জামান লন্ডন, দুবাই ও নিউ ইয়র্কে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সম্পত্তি কিনেছেন। তিনি বাংলাদেশে তার ট্যাক্স রিটার্নে এ বিদেশি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এ তথ্য গত অক্টোবরে আলজাজিরার তথ্যচিত্র ‘দ্য মিনিস্টার’স মিলিয়নস’-এ প্রকাশিত হয়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এরপর তার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। সাইফুজ্জামানও দেশত্যাগ করেন এবং আলজাজিরা তাকে লন্ডনের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের কাছে বিলাসবহুল এলাকায় নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে দেখে।

এর আগে শেখ হাসিনার আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী আহমেদ শায়ান এফ রহমান ও তার চাচাতো ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের ৯ কোটি পাউন্ডের সম্পত্তি জব্দ করে এনসিএ। সাইফুজ্জামান অবশ্য দাবি করেছেন, তার বিদেশি সম্পত্তি কেনার অর্থ বাংলাদেশের বাইরে তার দীর্ঘদিনের বৈধ ব্যবসা থেকে এসেছে এবং তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘উইচ হান্ট’-এর শিকার।

বাংলাদেশ সরকার এ সম্পদ উদ্ধারে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের এ নিষেধাজ্ঞা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কর্র্তৃপক্ষ। তবে এনসিএ জব্দ করা সম্পত্তির পুরো তালিকা এখনো প্রকাশ করেনি। এদিকে ব্রিটেনের এফবিআই হিসেবে পরিচিত এনসিএর এ পদক্ষেপ এমন সময়ে এলো যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসে লন্ডন সফর করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত