ব্রিটেনের রাজনীতি কি এতই ভঙ্গুর প্রশ্ন দুদক চেয়ারম্যানের

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৫, ০৭:১৯ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুর্নীতির মামলা করা হয়েছে। সংস্থাটি ব্রিটেনের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে না। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি টিউলিপের আইনজীবী দুদকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও দুদক ব্রিটেনের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। সাংবাদিকের এমন জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমার সহজ একটা প্রশ্ন, টিউলিপ সিদ্দিকের মামলা কি এমনি কোনো মামলা যে ব্রিটেনের ভঙ্গুর রাজনীতিকে আরও ভঙ্গুর করে ফেলবে। আমার মনে হয়, এটি আমরা অন্যভাবে দেখতে পারি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ব্রিটেনের রাজনীতি কি এতই ভঙ্গুর যে তার দেশের একজনের নামে মামলা হলো, আর তাতেই ব্রিটেনের সরকার, রাজনীতি একেবারে ধসে পড়বে, এটা কী হতে পারে? টিউলিপের আইনজীবীকে শব্দ চয়নে সচেতন হওয়ার দরকার। তারা নিজেদের দেশকে ছোট করছেন। প্রমাণ করছেন ব্রিটেনের রাজনীতি ভঙ্গুর। আমাদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের কী আছে। দুদকের কার্যপরিধিতে রাজনীতিতে যাওয়ার সুযোগ নেই।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এখন চিঠিপত্র পেয়ে মনে হচ্ছে চিঠিপত্রের মাধ্যমে আমরা মামলা নিষ্পত্তি করব। এটা তো হওয়ার কথা নয়। কোর্টে যখন মামলা হয়, আমাদের কাজ হচ্ছে কোর্টে মোকাবিলা করা। টিউলিপ সিদ্দিকের ক্ষেত্রেও তাই। আমরা একাধিকবার বলেছি টিউলিপের মামলা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়, এটা কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা নয়, কাউকে ছোট করার মামলা নয়, অনেক আসামির মতো টিউলিপ সিদ্দিকও একজন অভিযুক্ত। আমাদের এর চেয়েও অনেক বড় মামলা আছে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, টিউলিপ আমাদের কাছে বাংলাদেশের নাগরিক। তার বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে, তার টিআইএন আছে। তিনি বাংলাদেশে ইনকাম ট্যাক্স দাখিল করেছেন। তিনি বাংলাদেশি তাই তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মামলা করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, টিউলিপ বাংলাদেশের আইন মেনে মামলা মোকাবিলা করবেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, অপরাধী যে দেশে অপরাধ করবে তাকে সেই দেশেই মোকাবিলা করতে হবে। এখন মনে হচ্ছে সম্ভবত চিঠিপত্রের মাধ্যমে মামলা মোকাদ্দমা নিষ্পত্তি করতে চাইছেন। এটা তো হওয়ার কথা নয়। কোর্টে মামলা হচ্ছে টিউলিপ সিদ্দিককে কোর্টে হাজির হয়ে মামলা মোকাবিলা করতে হবে। এমন কী কখনো হয় চিঠি লিখে বলবেন সাত দিনের মধ্যে জবাব না পেলে ধরে নেব মামলা শেষ। টিউলিপের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা আছে। তিনি না আসলে অন্যদের মতো তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর বির্তকিত সংসদ নির্বাচন নিয়ে দুদক কাজ করছে।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে দুদক। কোনো কোনো মামলায় তার ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপের নাম রয়েছে। এসব মামলার বিষয়ে দুদক ও টিউলিপের মধ্যে শুরু থেকেই চিঠি চালাচালি চলছে। তবে টিউলিপের অভিযোগ, মুহাম্মদ ইউনূস বা দুদক এখন পর্যন্ত তার কোনো চিঠির জবাব দেয়নি।

সবশেষ উকিল নোটিসে টিউলিপ বলেন, গত ১৮ মার্চ ও ১৫ এপ্রিল দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদেও কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর ৪ জুন একটি চিঠি পাঠানো হয় প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত