ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস না হওয়ার খবর নাকচ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস হয়নি। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, নিখুঁতভাবে আঘাত হেনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে চাপ অব্যাহত রেখেছে যেখানে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর মার্কিন হামলা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে পারেনি।
এর আগে এ বিষয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে মার্কিন গণমাধ্যম এবং তাদের প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘ভুয়া খবর সিএনএন, ব্যর্থ নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাথে এক হয়ে, ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সামরিক হামলাগুলোর মধ্যে একটিকে খাঁটো করে দেখানোর চেষ্টা করছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে! টাইমস এবং সিএনএন উভয়ের সমালোচনা করছে জনগণ!’
পেন্টাগনের মূল্যায়ন কী বলছে?
হামলার তিন দিনের মাথায় পেন্টাগনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ ধ্বংস হয়নি। এতে বলা হচ্ছে, ইরানের সেন্ট্রিফিউজগুলো প্রায় অক্ষত রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি মূলত স্থলভাগের অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া ইরানের দুটি পারমাণবিক স্থাপনার প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং কিছু অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভূগর্ভস্থ মূল স্থাপনাগুলো অনেকটাই অক্ষত রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোকে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে মাত্র, সর্বোচ্চ এইটুকুই। ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার বিষয়টি নির্ভর করবে দেশটি খনন এবং মেরামত করতে কত সময় নেয় তার উপর।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির সহযোগী সিবিএসকে নিশ্চিত করেছে, হামলার আগেই ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের কিছু অংশ স্থানান্তরিত করেছিল। গত শনিবার এই হামলা চালানোর আগেই মার্কিন ৩০ হাজার পাউন্ডের ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর বোমাই একমাত্র অস্ত্র বলে মনে করা হয়েছিল।
শনিবারের হামলার কয়েক ঘণ্টা পর, জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সাংবাদিকদের জানান, সবগুলো স্থাপনাতেই চরম ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংস হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ফোর্দোর পারমাণবিক স্থাপনার দুটি প্রবেশপথের আশপাশে ছয়টি নতুন গর্ত এবং ধুলোমাখা ধ্বংসস্তূপ। তবে স্যাটেলাইট ইমেজের সেই ছবিগুলো দেখে এটা বোঝা সম্ভব ছিল না যে ভূগর্ভস্থ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতখানি।
ত্রাণ লাইনে গুলি, একদিনে গাজায় নিহত ৭৯