নির্বাচনের দিনক্ষণ জানতে চেয়েছিল আইএমএফ

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৫, ০৭:২৪ এএম

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ জানতে চেয়েছিল বলে উল্লেখ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য সময় প্রকাশ পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও ‘বাজেট সহায়তা’ আসতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান অর্থ উপদেষ্টা। তার আগে সোমবার আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি মিলিয়ে ১৩৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার ছাড় করার অনুমোদন দেয়। ৪৭০ কোটি ডলারের এই ঋণ কর্মসূচির দুই কিস্তির টাকা কিছুদিন ধরে আটকে ছিল শর্তপূরণ না হওয়ার কারণে।

সবশেষ ২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় কিস্তিতে ১১৫ কোটি ডলার ছাড় করে আইএমএফ। ওই তিন কিস্তিতে ২৩১ কোটি ডলার বাংলাদেশের হাতে এসেছিল। পরবর্তী চতুর্থ কিস্তি আসার কথা ছিল ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও রিজার্ভ কমে যাওয়ার সময় নানা শর্তের কারণে বাকি কিস্তি আটকে থাকে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের একটা সময় প্রকাশ পাওয়ায় আইএমএফসহ সবাই সন্তুষ্ট হয়েছে। আইএমএফ আমাকে প্রশ্ন করেছিল যে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কি হবে না। ওরা চিন্তা করছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কি না। আমরা তো বলেছি, হবে।’ তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এএফডি, এআইআইবি ঋণ অনুমোদন করেছে। মোটামুটি বাংলাদেশে সংস্কারকাজের অগ্রগতি দেখে সবাই সন্তুষ্ট।’

তিনি আরও বলেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে এখনো কোনো প্রভাব পড়েনি। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ‘যুদ্ধের ভেতরেও জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে সাশ্রয় হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যে প্রাইস ছিল, সেটা যুদ্ধ বন্ধের পর প্রাইস কমেছে। ইমিডিয়েটলি আমরা রিটেন্ডার করে ৫ থেকে ১০ ডলার কম পেয়েছি। সেখানে প্রায় ৭০-৮০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এটা এনার্জি মিনিস্ট্রির একটা ক্রেডিট। মরক্কো, তিউনিশিয়া থেকে আসা সারের দামও কিছুটা বেড়েছে। এখানে কোনো উপায় ছিল না।’

দেশের খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘চাল-গমের যে রিজার্ভ আছে, সেটা এখনো সন্তোষজনক। তবু আমরা বলেছি ৫০ হাজার টন গম এনে রাখার জন্য। যাতে খাদ্যের কোনো শর্টেজ না হয়।’ তিনি বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগটা একটু শ্লথ। কিন্তু বিভিন্ন কারণে, বিশেষ করে বাজেট সহায়তা আসার কারণে রিজার্ভ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি রপ্তানি এখন মোটামুটি ভালো। রেমিট্যান্স আসছে ভালো।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘সৌদি আরবে গিয়ে জানলাম, সাধারণ নাগরিকরা আমরা আসছি বলেই টাকা পাঠাচ্ছেন। আগে তারা টাকা পাঠাতে স্বস্তি পেতেন না। টাকা পাঠালে কোথায় যায়, কী হয় এগুলো নিয়ে তাদের অস্বস্তি ছিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত