করোনায় বেশি ক্ষতির শিকার বস্তির কর্মজীবী নারীরা

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৫, ০৭:৩৩ এএম

দেশে করোনা মহামারীতে বস্তির ও পোশাক কারখানায় কর্মরত নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছিলেন ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে বস্তির অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ৯০ শতাংশ নারীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় করোনায় বস্তির নারীদের ক্ষতির উদাহরণ তুলে ধরে মিরপুর বস্তির এক ২৮ বছর বয়সী গৃহকর্মী জানান, মহামারীর সময় সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে খরচের চাপে তাকে কানের দুল বিক্রি করতে হয়েছে এবং ঋণ নিতে হয়েছে। এর ফলে তার মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। এর পরোক্ষ প্রভাব হিসেবে কর্মসংস্থান কমেছে এবং খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।

গতকাল বুধবার আইসিডিডিআর,বির মহাখালীর সাসাকাওয়া অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে ‘ওম্যান রাইজ’ শীর্ষক এই গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন গবেষক দলের প্রধান ও আইসিডিডিআর,বির গবেষক ডা. সোহানা শফিক। ঢাকা ও গাজীপুরে আইসিডিডিআর,বির আরবান হেলথ অ্যান্ড ডেমোগ্রাফিক সারভেইল্যান্স সিস্টেম সাইট এবং গাজীপুরের ছয়টি তৈরি পোশাক কারখানায় এই গবেষণা চালানো হয়। এতে করোনা মহামারীর পূর্ববর্তী সময়, মহামারীর সময়কাল এবং মহামারীর পরবর্তী পর্যায়ে নারী শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, এই গবেষণার ফলাফল আমাদের সবাইকে ভবিষ্যতের যেকোনো মহামারীর জন্য প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে। আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা আবারও বাড়ছে। এ সময় ডা. সোহানা শফিক বলেন, গার্মেন্টস খাতে কর্মরত নারীরা তুলনামূলকভাবে কিছু সুবিধা পেলেও মানসিক চাপ, স্বাস্থ্যসেবা সীমাবদ্ধতা এবং ছাঁটাইয়ের ঝুঁকির কারণে তারাও ক্ষতির বাইরে ছিলেন না।

বেড়েছে স্বাস্থ্য সচেতনতা : গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের কারণে বেশ কিছু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি এসেছে। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ কীভাবে ছড়ায়, সে ব্যাপারে সামগ্রিকভাবে ৩০ শতাংশ নারীর সচেতনতা বেড়েছে। এই হার অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ।

করোনার লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে ২৫ শতাংশ। তার মধ্যে পোশাক কারখানায় কর্মরত নারীদের মধ্যে এই হার ৩২ শতাংশ ও বস্তির গৃহকর্মীদের মধ্যে ২০ শতাংশ।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান সামগ্রিকভাবে ২১ শতাংশ বেড়েছে। এতে আনুষ্ঠানিক খাতের ১৮ শতাংশ ও অনানুষ্ঠানিক খাতের ২৩ শতাংশ কর্মী উপকৃত হয়েছেন।

গবেষণায় আরও বলা হয়, হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম ও সময় সম্পর্কে জ্ঞান বেড়েছে আনুষ্ঠানিক খাতের ২৫ শতাংশ ও অনানুষ্ঠানিক খাতের ২৮ শতাংশ নারী কর্মীর।

গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রতিরোধমূলক অভ্যাস, যেমন মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং দূরত্ব বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তোলায় গড়ে ১৬ শতাংশ উন্নতি হয়েছে। খাদ্য গ্রহণে বৈচিত্র্য বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ নারীর, বিশেষ করে পোশাক কারখানায় কর্মরতদের মধ্যে। তবে অনানুষ্ঠানিক খাতে এখনো পুষ্টিজনিত ঝুঁকি বেশ স্পষ্ট।

এছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিবন্ধন সম্পর্কে অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের জ্ঞান ১৬ শতাংশ বেড়েছে। জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা পরিষেবা সম্পর্কে সামগ্রিকভাবে ২৩ শতাংশ জ্ঞান বেড়েছে। এই জ্ঞান আনুষ্ঠানিক খাতের ১৬ শতাংশ ও অনানুষ্ঠানিক খাতের ২৯ শতাংশ কর্মীদের মধ্যেই দেখা যায়।

আরও ২৬ জনের করোনা শনাক্ত : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ৪৯৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হার ৫ শতাংশ। এ সময় কেউ মারা যায়নি।

গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

অধিদপ্তর জানায়, দেশে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী মারা যান। সেদিন থেকে এখন পর্যন্ত করোনায় ২৯ হাজার ৫১৮ জন মারা গেছে। এর মধ্যে গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত