ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বারে হট্টগোল

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৫, ১২:৪৬ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্সে কার্যকরী কমিটির সভা চলাকালে একদল লোক ঢুকে হট্টগোল করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় চেম্বারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাঞ্ছিত ও মারধর করে টাকা, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের এসএসডি কার্ড নিয়ে গেছে তারা। গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা শহরের মসজিদ রোড এলাকায় অবস্থিত চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে।

চেম্বার অব কমার্স ও চেম্বারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগামী সেপ্টেম্বরে এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স ‘এ’ শ্রেণির হওয়ায় এফবিসিসিআইয়ের কাছে ছয়জন ভোটারের নাম পাঠাতে বলা হয়েছে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে গতকাল দুপুরে সভা করে চেম্বারের বর্তমান কমিটি। ছয়জন ভোটারের নাম নির্বাচন করতে সভায় বর্তমান ২০ সদস্যের কমিটির মধ্যে সাতজন কার্যকরী সদস্য সভায় বসেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সভাপতি আজিজুল হক, সহসভাপতি কাজী জাহাঙ্গীর ও বাবুল মিয়া, পরিচালক আজিজুর রহমান, জুয়েল খান, তানভির আহমদ, জাবেদুল ইসলাম।

সভা চলাকালে একদল বহিরাগত অতর্কিতভাবে চেম্বারে ঢুকে সভা বন্ধ করতে বলে। তাদের সঙ্গে চেম্বারের সদস্য কাজল মিয়াসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে তারা চেম্বারের সভাপতি আজিজুল হকের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে। এ নিয়ে চেম্বারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোল হয়। বহিরাগতরা একপর্যায়ে কক্ষে ঢুকে চেম্বারের সচিব আজিম উদ্দিনকে লাঞ্ছিত করে ড্রয়ার থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও ১০ হাজার টাকা, আরেকটি কক্ষে ঢুকে ভয় দেখিয়ে অফিস সহায়ক দুলাল মিয়ার মাধ্যমে কম্পিউটারের এসএসডি কার্ড ও একই কক্ষের হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে টেনেহিঁচড়ে বের মারধর করে। এ সময় তার কাছ থেকে ২২ হাজার টাকা নিয়ে যায় তারা। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

চেম্বারের হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একদল লোক চেম্বারে আসে। আমাকে কক্ষ থেকে বের করে মারধর করে। এ সময় তারা পকেট থেকে ২২ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সদস্য কাজল মিয়া বলেন, এই কমিটির অধিকাংশই আওয়ামীপন্থি লোক। তারা চেম্বারে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও চুরি করেছে। কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। সভাপতি আজিজুল হক, সহসভাপতি কাজী জাহাঙ্গীরসহ অধিকাংশের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তারা সভা করতে চাইলে সবাইকে জানিয়ে সভা করুক। এভাবে চুপিসারে কেন?

জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আজিজুল হক বলেন, সভা করে চলে আসার পর একদল লোক চেম্বারে ঢুকে সচিব আজিম উদ্দিনকে লাঞ্ছিত ও হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে মারধর করে। তাদের কাছ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।

সদর থানার ওসি মো. মোজাফফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। চেম্বারে আওয়ামীপন্থি সদস্যরা সভা করতে এসেছিলেন। দুই থেকে আড়াই মিনিট বসে তারা চলে গেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত