না.গঞ্জ থেকে শুরু জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫, ০৬:১৬ এএম

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী ৫ আগস্ট এই জাদুঘরটির উদ্বোধন করা হবে। এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য দেশের ৬৪টি জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, যা আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন হবে। গতকাল সোমবার ঢাকার গণভবনে জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালার বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জাদুঘরে প্রবেশের পর একজন দর্শনার্থী যেন উপলব্ধি করতে পারেন জুলাই বিপ্লব কেন হয়েছিল, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের ইতিহাস এবং গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ৫ আগস্ট উদ্বোধন হলেও, দর্শনার্থীদের জন্য এটি পরবর্তী- সময়ে উন্মুক্ত করা হবে। সংস্কৃতি উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের অপরাধের বিচার আদালত করবে। তবে আমাদের লক্ষ্য হলো, জাদুঘরে আগত দর্শনার্থীরা শেখ হাসিনার অপরাধের বিচার নিজেদের বিবেক দিয়ে করতে পারেন।’ তিনি জানান, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিচালনার জন্য একটি আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে জুলাই আন্দোলনের স্থিরচিত্র, বিভিন্ন স্মারক, শহীদদের ব্যবহৃত জামাকাপড়, চিঠি, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, সেই সময়ের পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিও এবং অন্যান্য স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শিত হবে।

এ ছাড়া, স্বৈরাচার ও গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও এই জাদুঘরে বিশেষভাবে প্রদর্শিত হবে। এই জাদুঘর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের একটি অংশ হিসেবে গড়ে উঠছে। সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে দেশের ৬৪টি জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে এই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে সব জেলায় এটি সম্পন্ন হবে।

নারীরা কেন মুখ লুকালেন : সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে নারী যোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জুলাই কন্যারা কাজ করবে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী নারীরা পরবর্তী-সময়ে কেন মুখ লুকিয়েছেন, তা বোঝা প্রয়োজন। অনেক নারী আন্দোলনে অংশ নিয়েও এখন ঘরবন্দি হয়ে হতাশায় ভুগছেন। তাদের খুঁজে বের করতে হবে। জুলাই আন্দোলনে নারীদের অবদান স্মরণে গতকাল ১৪ জুলাই ‘জুলাই উইমেন্স ডে’ উদযাপিত হয়েছে। গত বছরের ওইদিনে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে নারীরা বেরিয়ে এসে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সেøাগান দিয়েছিলেন। তাদের এই অবদান স্মরণে সরকার দিনটি নানাভাবে উদযাপন করছে।

শারমীন মুরশিদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছেলেরা যখন আক্রান্ত হচ্ছিলেন, তখন নারীরা এগিয়ে এসে তাদের রক্ষা করেছেন। এই আন্দোলন সম্মিলিত শক্তির বিকাশ এবং সমাজ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই শক্তিকে সংরক্ষণ করতে হবে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রত্যেক নারী যোদ্ধাকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নারীরা ‘সাইবার বুলিং’-এর শিকার হচ্ছেন। প্রথমে তাদের খুঁজে বের করে কাউন্সেলিং করা হবে, এবং পরে তাদের কীর্তি সংরক্ষণ করা হবে।

নারী যোদ্ধাদের খুঁজে বের করতে এত সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে শারমীন মুরশিদ বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমাদের নজরে আসতে সময় লেগেছে। আমরা তাদের কাছে সময়মতো পৌঁছাতে পারিনি। তবে দেরি হলেও ১০০ নারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নারীদের খুঁজে বের করার জন্য।’

তিনি আরও জানান, অনেক নারী জানিয়েছেন, তারা সামনে আসতে চান না। কেন এমন হচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। তাদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব আমাদের। যে নারীরা কিছুদিন আগেও রাজপথে সংগ্রাম করেছেন, তারা এখন কেন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, এটি ইতিবাচক বার্তা দেয় না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরও নারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। এবার যাতে তা না হয়, সেই চেষ্টা চলছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে শারমীন মুরশিদ বলেন, ‘সবকিছু ম্যাজিকের মতো ঘটে না। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি সাইবার টিম গঠন করছে, যারা ২৪ ঘণ্টা সাইবার বুলিং নজরদারি করবে। দেশে ও বিদেশে বসে অনেকে এই ঘৃণ্য কাজে জড়িত।’

নারায়ণগঞ্জে দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন : নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২১ জন শহীদ স্মরণে নির্মিত দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে জেলার সদর উপজেলার হাজীগঞ্জ এলাকায় স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ উপদেষ্টা। তারা হলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।

স্মৃতিস্তম্ভের ফলকে উল্লেখ করা ২১ জন শহীদ হলেন আহসান কবির, রিয়া গোপ, মো. রোমান, আরমান মোল্লা, মো. ইরফান ভূইয়া, মো. তুহিন, মো. মোহসীন, মো. জনি, ইব্রাহিম, মো. স্বজন, মো. আদিল, পারভেজ হাওলাদার, মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূইয়া, ছলেমান, ইমরান হাসান, হযরত বিল্লাল, সফিকুল, মো. সজল, মো. মাবরুর হুসাইন, মোহাম্মদ মাহামুদুর রহমান খান ও মোহাম্মদ সাইফুল হাসান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে শহীদদের নামে বৃক্ষরোপণ করে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত