সোহাগ হত্যা মামলা

সজীব-রাজীব দুই দিনের রিমান্ডে রবিন গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫, ০৬:২৩ এএম

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সজীব বেপারী ও রাজীব বেপারীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর মো. মনিরুজ্জামান দুই ভাইয়ের প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে, এই মামলায় অন্য এক আসামি রবিনকে গত বৃহস্পতিবার অস্ত্র মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে শনিবার রবিন আদালতে অস্ত্র মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে, প্রাথমিকভাবে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি, যা নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সমালোচনা হয়। পরে গতকাল তদন্ত কর্মকর্তা রবিনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে একই আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে রবিনের বিরুদ্ধে রিমান্ড চাওয়া হয়নি।

গত বুধবার মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে সোহাগের শরীর ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশ জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় ভিকটিম সোহাগের বড় বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে ১৯ জনকে আসামি করা হয়। এ পর্যন্ত মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সজীব ও রাজীবের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

আসামির পক্ষে লড়বেন না বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ঢাকা বার ইউনিট, গত সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোহাগ হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি, অন্য কোনো আইনজীবী যেন আসামিদের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ান, সে জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে মামলার কয়েকজন আসামির পক্ষে ওকালতনামা জমা দেওয়া কয়েকজন আইনজীবী বিএনপিপন্থি ছিলেন।

এখনো অধরা ১২ আসামি : এদিকে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠা এ ঘটনায় এখনো ১২ জন এজাহারনামীয় আসামি অধরা রয়েছেন। এখনো অধরা আসামিরা হলেন সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, মো. নান্নু, রিয়াদ, সাবা করিম লাকী, কালু ওরফে স্বেচ্ছাসেবক কালু, রজম আলী পিন্টু, মো. সিরাজুল ইসলাম, আনোয়ারুল হক রনি, কাইয়ুম মোল্লা, রাকেশ ও রহিম।

ডিএমপির কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, ঘটনার পর থেকেই সব আসামিদের গ্রেপ্তারে থানা-পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাব সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে মাহমুদুল হাসান মহিন, তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, আলমগীর, লম্বা মনির, সজীব ও রাজীব নামে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন রিমান্ডে রয়েছে। সবার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্য আসামিরা গ্রেপ্তার হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত