নিলামে আরও ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৫, ১২:২৪ এএম

টানা চারদিন ধরে কমার পর গতকাল মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম বেড়েছে। জানা গেছে, ডলারের দর স্থিতিশীল রাখতে এদিন বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ৩১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে।

জানা গেছে, গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামে ২২টি ব্যাংকের কাছ থেকে ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে। যার দর ধরা হয়েছে ১২১ টাকা ৫০ পয়সা। এর আগে গত রবিবার অনুষ্ঠিত প্রথম নিলামে একই দরে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনা হয়েছিল। এই দুই দফা নিলামে মোট ৩০ কোটি ৪০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা সাম্প্রতিক সময়ে বাজার হস্তক্ষেপে বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গতকাল  আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে এদিন সর্বোচ্চ দর ছিল ১২১ টাকা ৫০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন দর ছিল ১২০ টাকা ৮০ পয়সা। আর গড় দর ছিল ১২১ দশমিক ১১ টাকা। গত সোমবার এই গড় দর ছিল ১১৯ দশমিক ৭১ টাকা, অর্থাৎ একদিনেই বেড়েছে ১ টাকা ৪০ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোতে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে দাম কমছিল। রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের স্বার্থরক্ষায় বাজারমূল্য ধরে রাখতে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও বাজার থেকে ডলার কেনা হবে, যেন বাজারে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

তথ্য বলছে, ডলার সংকট সামাল দিতে গত তিন অর্থবছরে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ থেকে বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ডলার বিক্রি বন্ধ করেন নতুন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। একই সঙ্গে অর্থ পাচার বন্ধে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। এ ছাড়া আমদানি কমে যাওয়া, এলসি খোলার হার হ্রাস এবং প্রবাসী আয় ও রপ্তানি প্রবাহ বাড়ার ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এতে অনেক ব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ডলার জমা হয়ে যায়। এজন্য ব্যাংকগুলোও ডলার বিক্রির উদ্যোগ নেয়। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এখন বাজার থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতির একটি বড় কারণ। গত সপ্তাহে ডলারের দাম প্রায় ২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। আজকের দাম বাড়ার ঘটনাকে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভারসাম্য রক্ষার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

ডলারের এ দাম বাড়ার বিষয়ে খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক দিনে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ বাড়ার কারণে ডলারের দাম কম ছিল। একই সঙ্গে আমদানি হ্রাস ও এলসি (ঋণপত্র) খোলার গতি কমায় ডলারের চাহিদাও কমে গিয়েছিল। এ ছাড়া গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে। এতে বাজারে সংকেত গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দরপতন ঠেকাতে সক্রিয় হয়েছে, যা দাম বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলারের দাম দীর্ঘদিন ধরে চড়া থাকায় দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে, যা জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। তবে ডলারের দাম একবার কমে গেলে তা ধরে রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত