বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিবন্ধন পাওয়া ৯৬টি দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই সঙ্গে ভোটে পর্যবেক্ষক হওয়ার যোগ্যতা কমপক্ষে এইচএসসি পাস এবং বয়স সর্বনিম্ন ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম এ তথ্য জানান।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩ সালের নীতিমালা বাতিল ও তৎকালীন ৯৬টি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করে এবার নতুন নীতিমালা জারি করেছে এএমএম নাসির উদ্দিন কমিশন। ইসি জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৯৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়। কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধন বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামীতে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধিত করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিতে পারে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।
সহকারী জনসংযোগ পরিচালক মো. আশাদুল হক জানান, এবার পর্যবেক্ষণ নীতিমালায় বেশ কিছু নতুন সংযোজন করেছে। বর্তমান কমিশন পর্যবেক্ষক হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়াল এবং পর্যবেক্ষকদের ন্যূনতম বয়স কমিয়ে দিল।
তিনি জানান, সবশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় নিবন্ধন পাওয়া পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। নতুন নীতিমালার আলোকে আগ্রহী সংস্থাকে আবেদন করতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে ৫ বছরের জন্য নিবন্ধন দেবে ইসি। নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থা তিনদিন পর্যবেক্ষণ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের বয়স ২১ বা তার বেশি হতে হবে; ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে; কোনো নিবন্ধিত বা অনুমোদিত পর্যবেক্ষক সংস্থার মনোনীত হতে হবে।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পর্যবেক্ষক নিবন্ধন প্রথা শুরু করে ইসি। সে সময় ১৩৮টি সংস্থা নিবন্ধন পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষক ছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ২০১৪ সালে ৩৫টি সংস্থার ৮ হাজার ৮৭৪ জন পর্যবেক্ষক ভোট দেখেছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৮টি নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে ৮১টি দেশি সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৯৬টি নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে ৮০টির মতো সংস্থার ২০ হাজার ২৫৬ জন ভোট দেখেছেন।
