গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিতে হামলাকে পরিকল্পিত এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার নীলনকশা বলে মনে করছে বিএনপি। গত বুধবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এমনটাই বলেছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।
স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সভা মনে করে, পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করার জন্য ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনকারী এনসিপির সমাবেশে আক্রমণের ঘটনা ঘটায়। ফলে সরকারকে ১৪৪ ধারা ও কারফিউ জারি করতে হয়, যা এই মুহূর্তে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার নীলনকশা বলে মনে করা হয়।’
সভায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য সরকারের সমালোচনা করা হয় জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সভা আশা করে, রাজনৈতিক দলগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাদের কর্মসূচি নির্ধারণ করবে, অন্যথায় গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে সুযোগ করে দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সভায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সভাকে বিস্তারিত অবহিত করেন।’ মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘সভা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করে, গণতন্ত্রে উত্তরণের পথকে বিঘিœত করার জন্য এবং আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিশ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাহত করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। মবোক্রেসি, হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি অপরাধমূলক কর্মকা- বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো অযোগ্যতা এবং নির্লিপ্ততা পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা গণমাধ্যমে শুধু কথাই বলছেন কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সভা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য অতি দ্রুত সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে।’
মিটফোর্ডের নৃশংস হত্যাকা-ে বিএনপিকে জড়িয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শিষ্টাচার-বিবর্জিত বক্তব্য ও সেøাগানের সমালোচনা করা হয় বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর-উত্তম, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের তরুণ নেতা ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে রাজনৈতিক শিষ্টাচার-বিবর্জিত অশ্লীল বক্তব্য ও সেøাগান পুরো জাতিকে বিক্ষুব্ধ করেছে। সভা এসব কর্মকা-ের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানায়।’
তিনি বলেন, ‘সভা মনে করে, এ ধরনের কর্মকা- শুধু রাজনৈতিক পরিবেশকেই বিনষ্ট করবে না, গণতন্ত্রে উত্তরণের পথকে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে। সভা আশা করে, সব রাজনৈতিক দল পারস্পরিক মর্যাদা ও সৌহার্দ্যরে বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে এ ধরনের অরাজনৈতিক কর্মকা- থেকে বিরত থাকবে। সেই সঙ্গে মিটফোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানায় এবং অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।’
স্থায়ী কমিটির সভায় অংশ নেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীরবিক্রম ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
