মসজিদ পবিত্র স্থান। মসজিদে কেবল নামাজ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাজ গঠনের কেন্দ্রীয় কাজও পরিচালিত হয়। মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি সমাজের ইমানি চেতনা, নৈতিকতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার চর্চা গড়ে ওঠে। আর পবিত্র এই স্থানের সভাপতি হিসেবে যিনি থাকবেন তার চরিত্র, বিশ্বাস ও আদর্শ অবশ্যই পবিত্র ও গ্রহণযোগ্য হওয়া আবশ্যক। কারণ একজন সভাপতির সঠিক নেতৃত্ব মসজিদের ভাবমূর্তি ও কার্যক্রমকে যেমন উন্নত করতে পারে, তেমনি অনুপযুক্ত নেতৃত্ব মসজিদকে দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তির কেন্দ্রেও পরিণত করতে পারে।
ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদের পরিচালনার দায়িত্ব যারা গ্রহণ করে, তাদের সম্পর্কে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর মসজিদের আবাদ তো তারাই করবে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ইমান আনে, নামাজ আদায় করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, তারাই হবে সঠিক পথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা তওবা ১৮) এই আয়াতের আলোকে পরিষ্কার বোঝা যায়, মসজিদের দায়িত্বে আসীন ব্যক্তি হতে হবে মুমিন, মুত্তাকি ও আমলদার। তার হৃদয়ে আল্লাহভীতি থাকতে হবে এবং তার চালচলন হবে দ্বীনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
মসজিদের সভাপতির প্রধান যোগ্যতা হচ্ছে দ্বীনদারিত্ব। তিনি নিয়মিত নামাজ আদায়কারী হবেন, তার কোরআন-সুন্নাহর যথাযথ জ্ঞান থাকবে এবং ইমাম ও আলেমদের প্রতি সম্মান দেখাবেন। সভাপতির দায়িত্ব হলো মসজিদের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাঙ্গিক পরিবেশকে ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত রাখা। এজন্য তার মধ্যে থাকতে হবে দায়িত্ববোধ, আমানতদারি, স্বচ্ছতা ও উদার নেতৃত্বগুণ।
দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক জায়গায় দেখা যায়, মসজিদের সভাপতি পদটি কেউ কেউ ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর, সমাজে নেতৃত্ব দেখানোর কিংবা অর্থনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করেন। এমনকি কোথাও কোথাও সভাপতিরা নামাজ পড়েন না, ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ, অথচ মসজিদের প্রধান হন। কারও কারও বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া, ওয়াকফ সম্পদ আত্মসাৎ করা, ইমাম-মুয়াজ্জিনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা, এমনকি প্রকাশ্যে গুনাহে লিপ্ত থাকার অভিযোগও থাকে। তারা কখনো মসজিদে আসেন না, শুধু কমিটি বৈঠকে এসে ক্ষমতার আস্ফালন দেখান। মসজিদের দায়িত্বে থাকা এমন ব্যক্তি শুধু নিজের ক্ষতি করেন না, বরং পুরো সমাজে ভুল বার্তা দেন।
তাই মসজিদের সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে মুসল্লিদের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কেউ যেন ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, বেনামাজি, মাদকাসক্ত বা অন্য কোনো প্রকাশ্য গুনাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এই দায়িত্ব না পান, সেটা নিশ্চিত করা ইমানি দায়িত্ব। এই পদে আসীন হওয়ার জন্য দ্বীনি সততা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা অত্যাবশ্যক।
একজন ভালো সভাপতি হবেন এমন ব্যক্তি, যিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, মার্জিত আচরণসম্পন্ন, আলেমদের সম্মান করেন, নামাজ পড়েন এবং সমাজে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকেন। তিনি হবেন মসজিদের খাদেমস্বরূপ। আল্লাহর ঘরের দায়িত্ব আল্লাহর ভয় নিয়ে পালন করবেন এবং মসজিদের প্রতিটি খরচের হিসাব স্বচ্ছভাবে মুসল্লিদের সামনে তুলে ধরবেন।
মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব অনকে বড় আমানত। এই আমানতের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও একটি আমানত। তাই যিনি সভাপতির দায়িত্ব নেবেন, তাকে হতে হবে আমানতদার ও দ্বীনদার। অন্যথায় মসজিদের পরিবেশ কলুষিত হবে। সমাজের সর্বস্তরের মুসলমানের প্রতি আহ্বান থাকবে, মসজিদের দায়িত্ব যেন পবিত্র হাতে তুলে দেওয়া হয়।
