রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৫, ০২:২৮ এএম

কক্সবাজার পর্যটনশিল্পের জন্য বিকশিত স্থান উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘কক্সবাজারে মানুষের জন্য কল্যাণকর একটি পর্যটননীতি তৈরি জরুরি। এই কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সমস্যা দেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। রোহিঙ্গাদের মানবিক বিবেচনায় স্থান দিতে গিয়ে আমরা কক্সবাজারবাসীর ক্ষতি করছি কি না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। তাই দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বর্তমান সরকার বিশ্ববাসীকে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানায়।’

গতকাল শনিবার দুপুরে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি ও ইনস্টিটিউটের শহীদ দৌলত ময়দানে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’র জনসভায় তিনি এ কথা বলেছেন। নাহিদ বলেন, ‘কক্সবাজারসহ দেশের জনগণ সংস্কারের জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা বলেছি, জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই সনদ ঘোষণা করতে হবে।’

কে পিআর বুঝে, কে পিআর বুঝে না এটার জন্য সংস্কার আটকে থাকবে না মন্তব্য করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা বুঝি জনগণ সংস্কার বুঝে, জনগণ সংস্কার চায়। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে অবশ্যই পিআর হতে হবে। নির্বাচন কমিশন, দুদকসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিরপেক্ষ সাংবিধানিক কমিটি গঠন করতে হবে।’

সংস্কার কোনো দলের পক্ষে-বিপক্ষে নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের পক্ষে এবং জনগণের পক্ষে। ৩ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে জুলাই সনদ ঘোষণা করা হবে।’

শেখ হাসিনা অপরাধের গডফাদার মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, ‘নিজের মতো সারা দেশে গডফাদার তৈরি করেছিল। নারায়ণগঞ্জে যেমন গডফাদার ছিল, কক্সবাজারেও গডফাদার ছিল। আমরা নতুন করে কোনো গডফাদারের আবির্ভাব হতে দেব না। এনসিপি কক্সবাজারকে দেশের অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচয় করার জন্য কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশে নতুন কক্সবাজার হবে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে কক্সবাজারে শহীদ রোহিঙ্গা নাগরিক নুরুল মোস্তফাকে সরকারের গেজেটভুক্ত করারও দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।

জনসভায় দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘পরবর্তী বাংলাদেশ হচ্ছে বঙ্গোপসাগরকে নিয়ে। তাই বঙ্গোপসাগরকে নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’ বদিকে বিতাড়িত করেছি মন্তব্য করে হাসনাত বলেন, ‘এখন আমাদের মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে, ইয়াবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে।’

রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে হাসিনা চরম অন্যায় করেছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান দ্রুত করতে হবে। কক্সবাজারের পর্যটন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে কক্সবাজারের মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে হবে। কক্সবাজারের চিংড়িচাষি, লবণচাষিদের সঙ্গে আলাপ করতে হবে।’

তিনি পরবর্তী বাংলাদেশ হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর মন্তব্য করে বলেন, তার জন্য এনসিপি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সুজাউদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. তাসলিম জারা, অনিক রায় প্রমুখ।

এর আগে দুপুর পৌনে ১টায় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতিনিধিদলটি পদযাত্রা সহকারে কক্সবাজার শহর অভিমুখী রওনা দেয়। পদযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দুপুর ২টার দিকে পাবলিক লাইব্রেরি ও ইনস্টিটিউটের শহীদ দৌলত ময়দানে এসে পৌঁছায়। এ সময় সড়কের উভয় পাশে এনসিপি নেতাদের একনজর দেখতে অসংখ্য উৎসুক জনতার ভিড় জমে। এনসিপি নেতারা জনসভাস্থলে পৌঁছালে মুহুর্মুহু সেøাগানে নেতাকর্মীরা স্বাগত জানান।

জনসভা শেষে এনসিপি নেতাদের বহর বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথিমধ্যে রামু, ঈদগাঁও ও চকরিয়ায় পথসমাবেশে তাদের বক্তব্য রাখার কথা থাকলেও তা হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত