স্বাগতিক বাংলাদেশ সুবিধা পাকিস্তানের

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৫, ০৬:৪৫ এএম

অতীতের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে নতুন শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। ঘরের মাঠ, চেনা গ্যালারি, পরিচিত উইকেট সবই লিটন দাসদের পাশে। কিন্তু কাগজে-কলমে ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে পাকিস্তান, যাদের আত্মবিশ্বাসও এখন তুঙ্গে।

দুমাস আগেই পাকিস্তানে গিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই প্রতিপক্ষকেই মোকাবিলা শেরে বাংলার মাটিতে। আজ সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হতে যাচ্ছে তিন ম্যাচের নতুন সিরিজ। পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তবে ভেন্যু বদলেছে, বদলাতে চায় গল্পও। এবার কি ব্যাট-বলের লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বাংলাদেশ? উত্তর দেবে আজকের রাত।

পাকিস্তান দলটির ৯জন ক্রিকেটার মাত্র ৫ মাস আগেই বিপিএলে খেলেছেন এই কন্ডিশনে। টুর্নামেন্টের অধিকাংশ ম্যাচই হয়েছে হোম অব ক্রিকেটে। উইকেটের গতি, আচরণ সবই জানা তাদের। অভিজ্ঞতার ঝুলিতে যে বাড়তি ভার, সেটাই বাংলাদেশের জন্য হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে খুশদিল শাহ যিনি বিপিএলে ৮ ইনিংসে করেছিলেন ২৯৮ রান, নিয়েছিলেন ১৭টি উইকেট। কিংবা ফাহিম আশরাফ, যিনি ছিলেন ২০ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।

পাক অধিনায়ক সালমান আলি আগাও স্পষ্ট জানালেন, এই অভিজ্ঞতা তাদের পরিকল্পনার বড় অংশ, ‘বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই বিপিএল খেলেছে। কন্ডিশন সম্পর্কে তারা ভালো জানে। তাদের ইনপুট নিয়েই আমরা দল সাজিয়েছি।’

বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জটা কেবল প্রতিপক্ষ নয়, নিজেরাই। কারণ মিরপুরে শেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছে লিটন দাসের দল ১৪ মাস আগে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচও ১১ মাস আগে, টেস্ট ফরম্যাটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এতদিন পর ফিরতি ম্যাচে মানিয়ে নিতে সময় লাগবে। যদিও ডিপিএলে এই মাঠে খেলা হয়েছে অনেকের, তবে তা ছিল ভিন্ন সংস্করণের।

সেটা মানেন বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন নিজেও। তবে নিজেদের দিনে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য আছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যেকোনো দলকে হারানোর মতো মানসিকতা আমাদের আছে। আমরা সেই চেষ্টাই করব। তবে নির্দিষ্ট দিনে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। তার মানে এই না যে, হোম কন্ডিশন বলে আমরাই ভালো ক্রিকেট খেলব। আগেও বলেছি, পাকিস্তান ভালো দল। তাদের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই বিপিএল খেলে থাকে। তারাও সেই কন্ডিশনটা সম্পর্কে জানে। আমরা চেষ্টা করব, ভালো ক্রিকেটটা খেলার।’

সালমানের সেই জবাবে লিটন জানালেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন থাকে, তেমনি তৈরি হয় বন্ধুত্বও। সেই বন্ধুত্বই কখনো কখনো প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা জানার এক ধরনের জানালাও খুলে দেয়। তিনি বলেছেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মজাই আলাদা। অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়, ড্রেসিংরুম ভাগ হয়। ওরা আপনার শক্তি-দুর্বলতা জানতে পারবে। আপনিও পারবেন। ওরা বিপিএল খেলে কন্ডিশন বা সব জানে বলে সমস্যা হবে না। কারণ আমরাও জানি।’

বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ খেলেছে ১৫টি টি-টোয়েন্টি সবকটিই দেশের বাইরে। জয় এসেছে ৬টি, হার ৯টিতে। আমিরাতের কাছেও সিরিজ হারার স্মৃতি আছে, তবে আছে শ্রীলঙ্কাকে ২-১ ব্যবধানে হারানোর আত্মবিশ্বাসও। প্রেমাদাসায় পাওয়া সেই সিরিজ জয়ের রেশ এখনো ফুরোয়নি।

সেই সিরিজে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন প্রথম ম্যাচে ৩৮ করলেও, পরের দুই ম্যাচে ছিলেন ব্যর্থ। লিটন প্রথম ম্যাচে রান না পেলেও বাকি দুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে হয়েছিলেন সিরিজসেরা। বোলিং নৈপুণ্যে শেষ ম্যাচে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন শেখ মেহেদি। ফলে ধারণা করা যায়, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা একাদশ থাকবে মিরপুরেও। যদিও কন্ডিশনের দিক থেকে কলম্বো আর মিরপুর ভিন্ন। প্রেমাদাসায় পরে ব্যাট করে জয় পাওয়া যায় সহজে, কিন্তু মিরপুরে দুই ইনিংসেই চ্যালেঞ্জ কম নয়। বৃষ্টির কারণে উইকেট পুরো প্রস্তুতও হয়নি বলে ব্যাটিং হতে পারে আরও কঠিন।

মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে (২০২১) বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল। এরপর এই মাঠেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে (১২ মে, ২০২৩) ৮ উইকেটে হারে স্বাগতিকরা। তবে স্মরণীয় এক জয়ও এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই মাঠে ২০১৫ সালে, ৭ উইকেটে। সেটিই ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়।

দুই দল এখন পর্যন্ত ২২ বার মুখোমুখি হয়েছে টি-টোয়েন্টিতে। পাকিস্তান জিতেছে ১৯ বার, বাংলাদেশ মাত্র তিনবার। চতুর্থ জয়ের আশায় কাল মাঠে নামবে লাল-সবুজরা।

বাংলাদেশের বোলাররা বিশ্বকাপ পরবর্তী ১৫ ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে নিয়েছেন ৩০ উইকেট। পেসাররা ১৭টি, স্পিনাররা ১০টি, রানআউট ৩টি। শেখ মেহেদি একাই নিয়েছেন স্পিন বিভাগে ৮ উইকেট। মিরাজের শিকার দুটি। পেসারদের মধ্যে তাসকিন-শরিফুল ৫টি করে, মোস্তাফিজ ৩টি, তানজিম ২টি, বাকিদের ১টি করে।

এই পরিসংখ্যান আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে। তবে মাঠে সব হিসাবই বদলে যায় একটি বলেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত