নরসিংদীতে নাহিদ ইসলাম

দুই উপদেষ্টাকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৫, ০৭:৩২ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা এনসিপির কেউ নন, তারা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি। গণঅভ্যুত্থানকে শক্তিশালী করতে, গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে তারা সরকারে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার বিকেলে নরসিংদী পৌরসভার সামনে এনসিপির দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কোটা সংস্কারের দাবিতে সারা দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করেছিলাম। সেই আন্দোলন পর্যায়ক্রমে মানুষের মুক্তির দাবিতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল। ১ জুলাই দেশ গড়তে পদযাত্রা শুরু করেছিলাম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চল থেকে। আমরা এক মাসব্যাপী পদযাত্রা করে বিপ্লবের এই নগরী নরসিংদীতে এসেছি। বিপ্লবের ইতিহাস আমরা কেউ ভুলে যাইনি। আমাদের এখনো মনে আছে ১৮ জুলাইয়ের কথা। আমরা সবাই জানি ১৮ জুলাই নরসিংদীতে কী হয়েছিল। ১৭ জুলাই যখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে নেমে এসে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছিলাম। সেই কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে নরসিংদীর ছাত্র-জনতা নেমে এসেছিল। ১৮ জুলাই নরসিংদীর শিক্ষার্থী তাহমিদ শহীদ হয়েছিলেন। ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আহমিদকে গুলি করে হত্যা করেছিল সেই ফ্যাসিস্টরা। সেদিন আরও শহীদ হয়েছিলেন নরসিংদীর শিক্ষার্থী আমার ভাই ইমন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নরসিংদী জেলার ২২ জন শহীদ হয়েছেন। এই অভ্যুত্থানে এবং এই বিপ্লবে নরসিংদী ছাত্র-জনতা নেমে এসেছিল একটি নতুন বাংলাদেশের জন্য, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য। কিন্তু এক বছর পরও জুলাই পদযাত্রায় আমরা একই দাবি নিয়ে নেমেছি। আমরা দেখেছি, এক বছরে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে, নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে, সংস্কারকাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। নতুন সংবিধানকে প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হয়নি এবং ফ্যাসিস্টের রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে অপসারণ করতেও দেওয়া হয়নি। আমাদের ঘোষণাপত্র দেওয়া হয়নি। আমরা কিছুই বলিনি, আমরা কোনো দাবি থেকেও সরে আসিনি। আমরা সংগঠিত হচ্ছি, আমরা সংগঠিত হয়ে আপনাদের এই দাবিগুলো আদায় করে ছাড়ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘নরসিংদীতে যে অভ্যুত্থান হয়েছিল, এই অভ্যুত্থানের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সারা বাংলাদেশের মানুষ নেমে এসেছিল, সেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত একটি বাংলাদেশের দাবিতে। আমাদের এখনো রাজপথে নামতে হচ্ছে। আমরা আগামী ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে জড়ো হব। আমরা বিশ্বাস করি শুধু নরসিংদীবাসী এলেই, আমরা শহীদ মিনার থেকেই আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়তে পারব। শুধু নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরবাসী এলেই ঢাকা ভরাট হয়ে যাবে।’

এর আগে পথসভায় মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আগামী ৩ আগস্ট ঢাকায় এনসিপির সমাবেশ ঘিরে যারা নেতাকর্মীদের ওপর হাত তুলবে, তাদের জবাব দেওয়া হবে। এখন ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের ভয়ে থাকেন, আতঙ্কে থাকেন। এনসিপি ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা চায় না। দেশের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায়।’ এ সময় তিনি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য দলগুলোকে ক্ষোভ ভুলে আবারও ঐক্য হওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে দুপুরে নরসিংদী ক্লাবে শহীদ পরিবারদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় পদযাত্রা শুরু করে সন্ধ্যা ৬টায় নরসিংদী পৌরসভা চত্বরে পথসভায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, মুখপাত্র ডা. তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার শেলীসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত