২০২৪ ছিল স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৭:১৩ এএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ৭১-এর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ ভোলেনি, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও ভুলবে না। গতকাল মঙ্গলবার গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ঠিক এক বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে, ফ্যাসিস্ট শাসন বাংলাদেশ ত্যাগ করে পালিয়েছে। দেশ রাহুমুক্ত হয়েছে। স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের জন্য এটি আনন্দের ও বিজয়ের দিন।

তিনি বলেন, একুশ শতকে পলাতক স্বৈরাচার এক ভয়াবহ রাজত্ব কায়েম করেছিল। গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নকে স্বাভাবিক ঘটনায় রূপান্তরিত করা হয়েছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠরোধ করতে স্বৈরাচারের নির্দেশে শত শত গোপন বন্দিখানা ‘আয়নাঘর’ তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে মানুষকে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো। অনেককে চিরতরে গুম করা হয়েছে। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী বা কমিশনার চৌধুরী আলমের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত করা হয়েছিল। ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করা হয়েছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে। অন্যায়, অনিয়ম, দুরাচার ও লুটপাট দৈনন্দিন চিত্রে পরিণত হয়েছিল। দেশে ব্যক্তিতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে জনগণের সরাসরি ভোটে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ও সরকার গঠন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ লক্ষ্যে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ডাকাতি করে কিছু সম্পদ চ্যারিটিতে দিলেও ডাকাত জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তেমনি, অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা খুঁজতে গিয়ে কৌশলে পলাতক ফ্যাসিস্টের পক্ষে সাফাই গাওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। যারা ফ্যাসিস্ট শাসনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তুলনা করতে চান, তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট গণভবন ছেড়ে পালিয়েছে। সংসদ ভবন ছেড়ে সংসদ সদস্যরা, আদালত ছেড়ে প্রধান বিচারপতি, বায়তুল মোকাররম ছেড়ে প্রধান খতিব এবং ক্যাবিনেট ছেড়ে মন্ত্রীরা পালিয়েছে। ফ্যাসিস্টের দোসররা গা-ঢাকা দিয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয়, পলাতক এই ফ্যাসিস্টচক্রের মনে এখনো কোনো অনুতাপ বা অনুশোচনা নেই।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, হাজারো শহীদের রক্তে রঞ্জিত রাজপথে ফ্যাসিবাদবিরোধী অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ কায়েম হবে না, গণতন্ত্র হত্যার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না, বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না। এসব বিষয়ে জাতীয় ঐক্য অটুট আছে এবং থাকবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দলীয় আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইস্যুভিত্তিক ভিন্নমত থাকবে। এটি বিরোধ নয়, বরং গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে ভিন্নমত যেন ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ বা চরমপন্থার পুনরুত্থানের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের কর্মসূচি ও এজেন্ডা নিয়ে জনগণের আদালতে যাবে। জনগণ কোনটি গ্রহণ বা বর্জন করবে, তা সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ার। এভাবেই রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে রাষ্ট্রে জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হবে।

তারেক রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে জনগণ যতদিন না নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত করে সরকার গঠন বা পরিবর্তনের ক্ষমতা অর্জন করবে, ততদিন রাষ্ট্র ও সরকারে জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত