মিশ্র প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক নেতাদের

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৭:১৭ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন। এতে ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-কে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঘোষণাপত্র পাঠের পর সেখানে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা স্বাগত জানানোর পাশাপাশি মিশ্র প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘বিএনপি যা যা চায়নি জুলাই ঘোষণাপত্রে তার কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছে।’  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এই ঘোষণাপত্রে দেশের জনগণের আকাক্সক্ষার তেমন কোনো প্রতিফলন হয়নি।’ তবে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জুলাই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানিয়েছেন।

জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ভালোভাবে পড়ে বিশ্লেষণ করে বিএনপি এর ওপর মন্তব্য করবে। তবে দলটি যা যা চায়নি তার কিছুটা প্রতিফলন এতে হয়েছে।’ 

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘এই ঘোষণাপত্রে দেশের জনগণের আকাক্সক্ষার তেমন কোনো প্রতিফলন হয়নি। একটা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা আমরা দেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘এটা কোন তারিখ থেকে বাস্তবায়ন হবে? কাল থেকেই বাস্তবায়িত হবে? সেটা কিন্তু স্পষ্ট করেনি। উনারা যেটা বললেন, আগামী সরকার বাস্তবায়ন করবে। তাহলে বোঝা  গেল, এই সরকার কিছু করবে না। অথচ দায়িত্ব হচ্ছে এই সরকারের। এভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যুকে হালকাভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার যে ঘোষণাপত্র দেখলাম তাতে আমরা হতাশ। এই জাতি হতাশ।’

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র যেটা হয়েছে সেটাকে আমরা স্বাগত জানাই। ভালোভাবে পড়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তবে এটা যে হয়েছে সেটাকে অভিনন্দন জানাই।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেছেন, ‘ঘোষণাপত্র ২৪ এর জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানেরই অর্জন, সে কারণে এর আকাক্সক্ষাকে আমরা পূর্ণভাবে ধারণ করি। মুক্তিযুদ্ধসহ এদেশের মানুষের শত শত বছরের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু এই আকাক্সক্ষাকে বাস্তবায়ন না করা হলে অতীতের মতোই পুরনো বন্দোবস্ত আবারও ফেরত আসবে, জনগণকে অধিকারহীন করবে। কাজেই আমরা বাংলাদেশের মানুষের প্রতিই আহ্বান জানাব, প্রতিটি মানুষ যেন এক হয়ে জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞের বিচার, শহীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ায় জাগ্রত পাহারাদার হয়ে থাকেন। ন্যায়বিচার, সংস্কার, নির্বাচনের পথেই যা অর্জিত হবে। সংগঠিত মানুষই ইতিহাসের নির্মাতা, তারা জেগে থাকলে ফ্যাসিবাদ আর ফেরত আসতে পারবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত