স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দামে লাগাম টানতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা।
সম্প্রতি ঢাকার বাজারে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়ছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ৬০-৬৫ থেকে বেড়ে ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে অন্তত ২০ টাকা। এ অবস্থায় পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্তের কথা জানাল সরকার।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শুধু ভারত নয়, ব্যবসায়ীরা যেখান থেকে আমদানি করতে চাইবে, সেখান থেকেই আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। কারণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য পেঁয়াজের দাম কমানো এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করা। এজন্য যেখান থেকে দাম কম পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।’
এদিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়লেও মনিটরিং সংস্থা হিসেবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। কারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, হঠাৎ করে পেঁয়াজ একেবারেই উধাও হয়ে যেতে পারে না। দাম বাড়লে সেটারও একটা বিষয় থাকে, সময় নিয়ে ধাপে ধাপে বাড়ে। কিন্তু দুদিনের মধ্যে একবারে যখন কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ে, তখন সরকারের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।
আমদানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি জানালেও বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এবার আমাদের পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই, কারণ স্থানীয়ভাবেই পেঁয়াজের ভালো উৎপাদন হয়েছে।’
বাজারে এখন অবশ্য আমদানি করা কোনো পেঁয়াজ নেই, যা বিক্রি হচ্ছে, সবই দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ। তবে ঢাকার বাজারে কোনো দোকানে পেঁয়াজ নেই, এমন চিত্র দেখা যায় না। অভিযোগ উঠেছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো যারা আছে, তারা প্রতিবছর একটা সময় পেঁয়াজের আমদানির চাপ তৈরির জন্য দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে অস্থিরতা তৈরি করে। দেশে পেঁয়াজের ভালো উৎপাদন থাকার পরও কেন এর দাম হু হু করে বাড়ছে, সে বিষয়ে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
