বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার জন্য সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত চুক্তির আগে এটি সম্ভব হতে পারে।
গতকাল মঙ্গলবার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণসংক্রান্ত এক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি, যা শুল্ক হ্রাসে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, কারণ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’
ভারত সম্প্রতি বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা রপ্তানিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
তবে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৩.৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ৬ হাজার ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার। এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে পণ্য খাতে ১৩.৪০ শতাংশ এবং সেবা খাতে ১৮.৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য পণ্য খাতে ১৩.৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করে ৫ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেবা খাতে ১৮.৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করে ৮৫০ কোটি মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এবং তাদের রপ্তানি সক্ষমতা বিবেচনায় এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) পণ্য খাতে ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪ হাজার ৮২৮ কোটি মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৭ শতাংশ। এটি পূর্ববর্তী অর্থবছর (২০২৩-২৪) এর তুলনায় ৮.৫৮ শতাংশ বেশি। সেবা খাতে ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫৭৭ কোটি মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫.১৩ শতাংশ বেশি।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের পক্ষে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। মার্কিন শুল্কের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এমনকি এর চেয়েও বেশি রপ্তানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জ্বালানি সংকট, ব্যাংক ঋণের সমস্যা এবং কাস্টমস সংক্রান্ত জটিলতার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান হলে আমরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রপ্তানি করতে পারব।’
এ সময় বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘আমরা শিগগিরই খাতভিত্তিক প্রধানদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। সমস্যাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেব।’
তিনি জানান, রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে তৈরি পোশাক (ওভেন) খাতে ১৪.৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ২০ হাজার ৭৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তৈরি নিট খাতে ১২.০১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ২৩ হাজার ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। হোম-টেক্সটাইল খাতে বিশ্ববাজারের আকার, প্রবৃদ্ধি এবং দেশের সক্ষমতার প্রেক্ষাপটে ১৭.০৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১ হাজার ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত লেদার ও লেদার গুডসের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১ হাজার ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানিতে ২২.০৬ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্যে ৯.৭৩ শতাংশ এবং কৃষিপণ্যে ২২.৪৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
