যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামীকাল সোমবার হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। এতে ইউরোপের কয়েকজন নেতাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। তবে ঠিক কোন নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
গত শুক্রবার আলাস্কার এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা মুখোমুখি আলোচনা করেন ট্রাম্প। তিন বছরের বেশি সময় পর এটাই ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রথম বৈঠক। বৈঠক শেষে ট্রাম্প একে ‘উষ্ণ’ বলে আখ্যায়িত করেন, আর পুতিন বলেন এটি ছিল ‘খোলামেলা ও গঠনমূলক’।
এই বৈঠক থেকেই ইউক্রেন সংকট সমাধানের পথে সম্ভাব্য অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন দুই নেতা। এর পরদিনই ট্রাম্প জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান।
নিউইয়র্ক টাইমস সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বৈঠকে ট্রাম্প সম্ভবত জেলেনস্কির কাছে একটি সমঝোতা প্রস্তাব পেশ করবেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউক্রেনকে দনবাস অঞ্চলের সেই সব এলাকা রাশিয়ার বলে মেনে নিতে হবে, যেগুলো মস্কো সংসদীয় প্রক্রিয়ায় নিজেদের বলে ঘোষণা করেছে। এমনকি যেসব এলাকা এখনো কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু রাশিয়া দাবি করছে, সেগুলোও ছেড়ে দেওয়ার শর্ত থাকতে পারে প্রস্তাবে। বিনিময়ে রাশিয়া অন্যান্য সীমান্তে চলমান সংঘাত থামাবে।
কিন্তু জেলেনস্কি একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন—কোনো ভূখণ্ড রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দেওয়া হবে না; বরং হারানো সব এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এগোবে ইউক্রেন।
আলাস্কা বৈঠকের পর যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা যৌথ বিবৃতি দেন। সেখানে তাঁরা ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ক্রেমলিন উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেছেন, ট্রাম্প–জেলেনস্কি–পুতিন বৈঠক নিয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা হয়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত বৃহস্পতিবার ফক্স বিজনেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইউক্রেনের ইউরোপীয় সমর্থকরা যদি বাস্তবসম্মত কোনো সমাধান হাজির করতে না পারে, তবে তাদের “চুপ থাকা উচিত।” তাঁর মতে, ইউক্রেন সংকট বন্ধের সমাধান খুঁজতে মূলত যুক্তরাষ্ট্রই উদ্যোগ নিচ্ছে, এ অবস্থায় ইউরোপের দাবি-দাওয়া তুলে ধরা প্রক্রিয়াকে জটিল করছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প–জেলেনস্কি বৈঠক ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অনিশ্চিত আবহ। রাশিয়ার শর্ত মেনে নেওয়ার কোনো প্রস্তাব যদি সত্যিই আসে, তবে তা ইউক্রেনের প্রকাশ্য অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে ইউরোপের নেতাদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা এই সংকট সমাধানে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
গাজায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু
সংস্কৃতি উপদেষ্টা শঙ্কামুক্ত