গত জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে চালের দাম। এ মাসে খাদ্যপণ্যের মোট মূল্যস্ফীতিতে চালের দামের ভূমিকা ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ ছাড়া গত এক বছরে অর্থনীতিতে সরকারের অর্জন মিশ্র পর্যায়ে আছে। অর্থাৎ, কিছু ভালো এবং কিছু ক্ষেত্রে খারাপ। এ ছাড়া নির্বাচনী অনিশ্চয়তা না থাকলে আগামী অর্থ দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) মাসিক ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল রবিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ার ক্ষেত্রে ফলের অবদান ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ, তেলের ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং মাংসের অবদান রয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুলাই মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যা জুন মাসে ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত ডিসেম্বর মাস থেকে টানা সাত মাস মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী ছিল। হঠাৎ করেই এ হার বেড়ে যাওয়ায় আগস্টেও মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকারের এক বছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রিজার্ভ স্থিতিশীল করা, মুদ্রাবিনিময় হার স্থিতিশীল রাখাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা দেখিয়েছে। ফলে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে। কিন্তু রাজস্ব আদায়, ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেওয়ায় বেসরকারি ঋণপ্রবাহে বাধার সৃষ্টিসহ নানা ক্ষেত্রে লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। ফলে অর্থনীতিতে সরকারের এক বছরে মিশ্র অর্জন হয়েছে।
ড. মঞ্জুর হোসেন বলেন, মূল্যস্ফীতি কমলে চালের দাম বাড়াটা উদ্বেগের। এটি লুকানোর কিছু নেই। কেন চালের দাম বাড়ছে, সেটি নিয়ে জিইডি গবেষণা করবে। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে উঠে গিয়েছিল। যে কারণে সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এজন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণার পাশাপাশি সরকারি কেনাকাটায়ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করে। ইকোনমিক আপডেটে উল্লেখ করা হয়, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সফল হলেও অন্য নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। যে কারণে ব্যাংক থেকে সরকারকে বেশি মাত্রায় ধার নিতে হচ্ছে। এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর বিকল্প নেই।
