সাদা পাথরকান্ডে সিলেট জেলা প্রশাসক ওএসডি

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪০ এএম

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র থেকে পাথর লুটপাটের ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে সিলেটের প্রশাসনে বড় রদবদল হলো। জেলা প্রশাসক শের মোহাম্মদ মাহবুব মুরাদকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়েছে। সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দুর্নীতি ও ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। আর কোম্পানীগঞ্জে নতুন ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামকে। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আর সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবী স্বাক্ষরিত আদেশে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও বদলি করা হয়েছে।

সাদা পাথর লুটপাটের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার মন্ত্রণালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় তিনি বলেন, সাদা পাথরে যে লুটপাট হয়েছে সেখানে সিলেটের স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশ ছিল অথবা প্রশাসন নীরব ছিল। এ ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপদেষ্টার এই বক্তব্যের পরদিনই সিলেটের ডিসি ওএসডি এবং ইউএনও বদলি হলেন।

সিলেটে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. সারওয়ার আলম ২৭তম বিসিএস-এর প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতি ও ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে দেশব্যাপী আলোচিত ও প্রশংসিত হন। বর্তমানে তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পদোন্নতি আটকে থাকা সারওয়ার আলম অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উপসচিব পদে পদোন্নতি পান।

২০২১ সালে পদোন্নতিবঞ্চিত হওয়ায় সারওয়ার আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি লিখেন-‘চাকরি জীবনে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্যায়, অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাদের বেশিরভাগ চাকরিজীবনে পদে পদে বঞ্চিত ও নিগৃহীত হয়েছেন এবং এ দেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াটাই অন্যায়।’

এই ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ায় ২০২২ সালের মে মাসে সারওয়ার আলমকে শাস্তি প্রদান করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়ার কথা উল্লেখ করে সারওয়ার আলমকে লঘুদন্ড হিসেবে তিরস্কার করেছিল মন্ত্রণালয়।

এদিকে ওএসডি হওয়া শের মাহবুব মুরাদ গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেটে জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। তার দায়িত্বকালীন সিলেটের জাফলং, ভোলাগঞ্জ, সাদা পাথরসহ বিভিন্ন পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে পাথর লুট হতে থাকে। সম্প্রতি সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্রে নজিরবিহীন পাথর লুটপাটের ঘটনা ঘটে। যা সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। সাদা পাথর রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সব মহলে প্রশ্ন ওঠে। এ অবস্থায় শের মাহবুব মুরাদকে ওএসডি এবং কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত