আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ১৯৯০ সালের ডাকসু নির্বাচনের মতো পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে জয়লাভ করে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেল থেকে মনোনীত সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরের কাছে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
আবিদুল ইসলাম বলেন, ১৯৯০ সালে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল তাতে ছাত্রদলের বড় ভূমিকা ছিল। যেটার ফল ডাকসু নির্বাচনে তারা পেয়েছিল। সেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আবারও একটি ডাকসুক্ষণ পেতে যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি নব্বইয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে ২০২৫-এর ডাকসুতে।
তিনি বলেন, একইভাবে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে একটা নিকৃষ্ট ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে সবচেয়ে দীর্ঘ লড়াই চালিয়েছে ছাত্রদল। ১৬ বছর এ রাষ্ট্রের স্বার্থে, রাষ্ট্রের সংকটময় মুহূর্তে, যারা রাষ্ট্রের সেবা করেছে, রাষ্ট্রের প্রশ্নে আপসহীন ছিল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ নির্বাচনেও শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলকে বিজয়ী করবে।
আবাসন সংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে আবিদ বলেন, ঢাবির অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসে। মেস বা বাইরের হোস্টেলে থাকলে তাদের খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়, যা অনেক পরিবার বহন করতে পারে না। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে বেঁচে থাকার জন্য একসঙ্গে চার-পাঁচটি টিউশনি করতে হয়। এতে সারা দিনের বেশিরভাগ সময় টিউশনে ব্যয় হয়ে যায়, পড়াশোনার জন্য যথেষ্ট সময় মেলে না। আবাসন সংকট দূর করতে পারলে শিক্ষার্থীরা মানসিক প্রশান্তি পাবে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারবে। আমাদের বড় বড় ভবন দরকার নেই। প্রয়োজন শুধু মাথার ওপর একটি ছাউনি আর পড়াশোনার জন্য সামান্য পরিবেশ। প্রয়োজনে টিনের চাল দিয়েও শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে তারা যেন দেশের নেতৃত্ব দিতে পারে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।
কার্জন হলের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কার্জন হল, মোতাহার হোসেন ভবন, মোকাররম ভবনে ক্যান্টিন সমস্যা থেকে শুরু করে অনেক সমস্যা আছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। ছাত্রদল প্যানেল প্রতিজ্ঞা করছে, নির্বাচিত হলে কার্জন হলকেন্দ্রিক যত সমস্যা আছে, সমাধান করা হবে।
বাধা আসছে কি না, জানতে চাইলে আবিদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদসহ সামাজিকমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে নির্বাচনী পরিবেশের জন্য হুমকি। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তাদের দেওয়া প্রকৃত ঘটনার পোস্ট ডিলিট করে দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। আমরা এমন মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর নিন্দা জানাই এবং মিথ্যা প্রচারণা না চালিয়ে রাজনৈতিকভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করার আহ্বান জানাই। পাশাপাশি অপপ্রচার চালিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, ছাত্রদলই একমাত্র সংগঠন যারা কখনো দেশের প্রশ্নে আপস করেনি। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদল নেতাদের প্রতি আস্থা রেখে সম্পূর্ণ প্যানেলকে বিজয়ী করেছিল। এবারও শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রতি আস্থা রাখবে বলে মনে করছি।
ছাত্রদলের প্যানেল সম্পর্কে তিনি বলেন, এবার আমাদের প্যানেলে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, নারী, ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড, আদিবাসী এবং সনাতন ধর্মীয় শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। এ অন্তর্ভুক্তিমূলক প্যানেল ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ পেয়েছে এবং এক ধরনের জাগরণ তৈরি হয়েছে। তাই আমরা এ প্যানেল নিয়ে আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ আমরা পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে জয়ী হব।
হল সংসদে সম্ভাবনা কেমন জানতে চাইলে তানভীর বলেন, হলগুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বেশি। ইনশাআল্লাহ শুধু কেন্দ্রীয় সংসদে নয়, হল সংসদেও ছাত্রদলকে শিক্ষার্থীরা পূর্ণ প্যানেলে জয়ী করবে।
নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে তিনি বলেন, ছাত্রদল এখনো ইশতেহার ঘোষণা করেনি। ২৬ আগস্ট ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কাজ করব। মেয়েদের হলে শিক্ষার্থীরা রাত ১০টার পর বাইরে বের হতে পারে না। তাই জরুরি প্রয়োজনে নারী হলগুলোতে ছোট আকারে মেডিকেল সেন্টার যেন হয়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তাছাড়া, একসময় দেশের বড় বড় সেক্টরের শীর্ষ পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থাকত। কিন্তু এখন সেখানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে। এর কারণ, আমাদের শিক্ষকরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে তাদের টিচিং কোয়ালিটি বেড়ে যায়। সেখানে শিক্ষার্থীরা টিচার্স ইভল্যুয়েশন পদ্ধতিতে শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়ন করতে পারেন। আমাদের এখানে গত বছর এ পদ্ধতি চালু হলেও তা কার্যকর হয়নি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচার্স ইভল্যুয়েশন পদ্ধতি নিশ্চিত করব। এতে শিক্ষকদের পড়ানোর মান বৃদ্ধি পাবে।
ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের এ নির্বাচনে ২৮টি পদে ভোট হবে। ৪৬২ জন ছাত্রছাত্রী ডাকসু নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, ১৮টি হল সংসদে ১৩টি পদে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ১০৮ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এবারই প্রথম হলের বাইরে এসে নন-অ্যাকাডেমিক আটটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।
