অতিরিক্ত গরম গর্ভবতী ও অনাগত সন্তানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৫, ০১:৪৭ পিএম

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের বাসিন্দা সাগোবাই মাত্র কুড়ি বছরের তরুণী। তৃতীয়বারের মতো সন্তানসম্ভবা হলেও তিনি আগের চেয়ে বেশি কষ্ট অনুভব করছেন। কয়েক মাস আগে তাপমাত্রা যখন প্রায় পঞ্চাশ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে যায়, তখন তার মাথা ঘোরা, শরীর দুর্বল হয়ে পড়া ও পানিশূন্যতার মতো সমস্যায় ভুগেছেন।

তার মতো আরও অনেক নারী মনে করেন, অতিরিক্ত গরম শুধু তাদের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, অনাগত সন্তানের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

গবেষণা কী বলছে?

পাকিস্তানে আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দীর্ঘমেয়াদী একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এতে গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই হাজারো নারীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।

গর্ভকালীন সময়জুড়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, দীর্ঘস্থায়ী আল্ট্রাসাউন্ড, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার, সন্তানের জন্মের পর প্লাসেন্টা নমুনা সংগ্রহ।

এই গবেষণার লক্ষ্য হলো—অতিরিক্ত গরম কীভাবে মা ও নবজাতকের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে তা খুঁজে বের করা।

কেন গরম বিপজ্জনক?

গর্ভাবস্থায় নারীর বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়, ফলে শরীরে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়।

রক্তের পরিমাণ প্রায় অর্ধেক বেড়ে গিয়ে হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

পানিশূন্যতা, অপুষ্টি ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

নবজাতকেরা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে দুর্বল হওয়ায় সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, তীব্র গরমে অকাল প্রসবের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পরে বিভিন্ন দেশে হওয়া বহু গবেষণা এই তথ্যকে সমর্থন করেছে।

২০২৪ সালের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়—

গর্ভধারণের শেষ মাসে প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে অকাল প্রসবের সম্ভাবনা প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

টানা কয়েক দিনের তাপপ্রবাহে এই ঝুঁকি এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

আশঙ্কাজনক বাস্তবতা

যেহেতু অধিকাংশ গবেষণা হয়েছে উন্নত ও তুলনামূলক শীতল দেশে, তাই গরমপ্রধান উন্নয়নশীল দেশে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত