দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ

বন্ধ হল সেই অবৈধ সিসা গলানোর কারখানা

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৭ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে সবুজ নয়নাবিরাম নিভৃত পল্লীতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা পুরাতন ব্যাটারি থেকে বের করা সিসা গলানোর সেই অবৈধ কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে ভ্রমমাণ আদালত। এতে আশপাশের বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরছে। এ সময় সেখান থেকে কয়লা ও জেনারেটর জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরের দিকে বরমী ইউনিয়নের ২ নং ওর্য়াডের লাকচতল গ্রামে আলমগীর জাহাঙ্গীরের ভিটায় অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা সততা ব্যাটারি হাউজ নামে ওই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। তবে এ সময় সেই সিসা গলানোর কারখানা কর্মরত কোনো লোকজনকে পাওয়া যায়নি। তবে  অভিযানের খবর আগেই টের পেয়ে সবাই পালিয়ে যায়।  

গাজীপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জালাল উদ্দীন এ ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে গত ২২ আগস্ট (শুক্রবার) দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার পিছনের পৃষ্ঠায় সিসার বিষে নীল সবুজ গ্রাম শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। খবর প্রকাশের তিন দিন পর আজ (২৫ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন সেখানে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান- আলমগীর ও জাহাঙ্গীর নামে দুই ভাইয়ের জমি (উঁচু ভিটা) ভাড়া নিয়ে বগুড়ার এক ব্যক্তি এ সিসা গলানোর কারখানাটি স্থাপন করেছিলেন। সেখানে আগে পোল্ট্রিসেড ছিল পরে সেটি সিসা গলানোর কারখানা হিসাবে মালিক ভাড়া নিয়েছেন।

সেই ভিটার (জমির) খোলা স্থানে বিশাল টিরপলের শামিয়ানা টাঙিয়ে তার নিচে হাজার হাজার ব্যাটারির বাক্স স্তূপ করা হতো। সেখানে শ্রমিকরা সারাদিন ব্যাটারির ভিতর থেকে সিসার প্লেট খুলে খুলে জমা করে সেগুলো রাতে গর্তের ভিতরে দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে গলানোর কাজ করত। এ সময় সিসা পুড়ানো ঝাঁঝালো গন্ধে এলাকায় টিকা দায় হয়ে পড়ত। রাত ৯টার পরে সিসা গলানো শুরু করে আর ভোর রাত অবদি চলত সিসা গলানোর কাজ। সারা রাত মানুষ ঝাঁঝালো গন্ধে ছটফট করত। নিশ্বাস নিতে চরম কষ্ট হতো। শিশু বৃদ্ধ নিয়ে অনেকে চরম কষ্টে ছিলেন। যাদের বাড়িতে রোগী আছেন তারা আরও বেশি কষ্টে থাকতেন।  

সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে সেই অবৈধ সিসা গলানোর কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রাত নামলে এখন আর কোনো ভয় কাজ করবেনা। তারা আশা করেন এটা যেন (সিসা কারখানা) আর কোনো অপশক্তির জোরে আবার যেন গড়ে উঠতে না পারে সে দিকে প্রশাসন নজর রাখবে।

নাম প্রকাশে একাধিক বাসিন্দা জানান- সিসা কারখানায় অভিযান হবে এটা আগেই কারখানা মালিকদের কেউ জানিয়ে দিয়েছে। তাই তারা পরিকল্পিত ভাবেই সব গুছিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে পালিয়েছে। তাই কারখানায় গিয়ে কোনো সিসা পাওয়া যায়নি। কোনো কর্মচারীকেও পাওয়া যায়নি। তারা বলেন গত দুদিন অনেক বেশি সিসা পুড়ানো হয়েছে। তারা খবর নিশ্চিত হয়েই সব সিসা পুড়িয়ে সেগুলোসহ দামি সব যন্ত্রপাতি নিয়ে সরেছে কারখানার লোকজন। আচমকা অভিযান হলে এতোসব জিনিসপত্র সরানো সম্ভব ছিলনা। তাদের দাবি পরিবেশ অধিদপ্তর বা স্থানীয় কোনো প্রশাসন বা দালাল চক্র সে খোঁজ দিয়েছে সিসা কারখানা মালিককে। ফলে সবই তারা ঝাড়–দিয়ে পরিষ্কার পরিছন্ন করে খালি সেড রেখে পালিয়ে গেছে। সেখানে গেলেই (সিসা কারখানায়) চকচকে তকতকে অবস্থা দেখে স্পষ্ট বুঝা যায় তারা সব জেনে বুঝেই পালিয়েছে প্রস্তুতি নিয়ে। 

গাজীপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরেফিন বাদল বলেন আজ দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয় সিসা গলানোর অবৈধ কারখানায়। তবে এ সময় সেখানে দায়িত্বরত কাউকে পাওয়া যায়নি। কোনোভাবে অভিযানের বিষয়টি আগেই টের পেয়ে সবাই পালিয়ে গেছে। এ সময় সিসা কারখানা থেকে বস্তা ভর্তি বেশ কিছু কয়লা ও একটি বড় মাপের জেনারেটর জব্দ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্ততরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জালাল উদ্দীন অভিযান পরিচালনা করেন।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ জানান পরিবেশ অধিদপ্তর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে সিসা গলানোর কারখানায়। ওটা বন্ধ করা হয়েছে। আমরা নানা ভাবে তাদের তথ্যগত সহযোগিতা করেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত