সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে দাবি ও আপত্তি বিষয়ে দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে বাগেরহাটের চারটি আসন পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বাগেরহাট থেকে আসা প্রতিনিধিরা। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দ্বিতীয় দিনের মতো সংসদীয় এলাকার সীমানা শুনানিতে এ দাবি জানানো হয়।
১৯৮৬ সালে থেকে বাগেরহাট-১, ২, ৩ ও ৪ আসনেই বিভক্ত হয়। বাগেরহাট-১ মোল্লারহাট-ফকিরহাট-চিতলমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়। বাগেরহাট-২ সদর ও কচুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। বাগেরহাট-৩ রামপাল ও মোংলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এবং বাগেরহাট-৪ মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল।
এবার নির্বাচন কমিশন সীমানা নির্ধারণে ভোটার সংখ্যার সমতা আনতে গিয়ে বাগেরহাট চার আসনটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাগেরহাট-১ আগের মতো বহাল রাখা হলেও বাগেরহাট-৩ আসনে ভেঙে রামপাল উপজেলা ও মোংলা উপজেলা দুটিকে দুই আসনকে ২ ও ৪ আসনে সংযুক্ত করা হয়। এ ছাড়া বাগেরহাট-২ সদর উপজেলা ও কচুয়া উপজেলার সঙ্গে রামপাল উপজেলাকে যোগ করা হয়েছে। আর বাগেরহাট-৪ মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে মোংলা উপজেলাকে।
শুনানি শেষে বাগেরহাট-৩ আসনের বাসিন্দা ওয়াহিদুজ্জামান দিপু সাংবাদিকদের বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বাগেরহাটে চারটি আসন। হঠাৎ করে ইসি বলেছে চারটি আসন থাকবে না। একটা বাদ। আমরা বলেছি, এটা বাগেরহাটবাসী মানবে না। এটা আইন পরিপন্থী এবং বাস্তবসম্মত নয়। ইসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা জনবিরোধী। জনস্বার্থ পরিপন্থী। আমরা ইসিকে অনুরোধ করব তারা বাগেরহাটের একটি আসন কমিয়ে সংসদীয় আসন নিয়ে যে খসড়া প্রস্তাবনা দিয়েছে, তা তারা প্রত্যাহার করবে। আমরা চাই বাগেরহাটের চারটি আসন আগের মতো বহাল থাকবে।
এ সময় একই আসনের বাসিন্দা শেখ মো. জাকির হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে, সেই ইসির দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। তারা সেটা না দিয়ে বাগেরহাটের জনগণের যে চারটি আসন ছিল, সেখান থেকে একটি আসন কমিয়েছে। আসন কমিয়ে বাগেরহাটবাসীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, শুনানিতে আমাদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছিল, গাজীপুরের কোনো প্রতিনিধি এখানে আসছেন কি না বা পাবলিক হিয়ারিং হয়েছিল কি না? তবে কমিশন কোনো উত্তর দিতে পারেনি। ওনারা কোনো সমীক্ষা ছাড়া এটা করেছে। সুতরাং আমরা আশা করছি, ওনারা আইনের মধ্যে থেকে কাজ করবেন। ২০১৮ সালের যে ডিলিমিটেশন অ্যাক্ট আছে, সে অনুযায়ী তারা কাজ করবেন। আমাদের বাগেরহাটের চারটি আসন ফিরিয়ে দেবেন।
এ আসনের আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, যেখানে মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন ও শরণখোলা উপজেলায় ৪টি ইউনিয়ন; এই ২০ ইউনিয়নের সঙ্গে মোংলা উপজেলা যুক্ত করা হয়েছে যার আরও ৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ বিশাল এলাকা একটি সংসদীয় আসন দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ ছাড়া বাগেরহাটের পাশেই পিরোজপুর-৩ আসনে যেখানে একটিই উপজেলা, যার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে একটি সংসদীয় আসন রয়েছে। সেখানে নির্বাচন কমিশনের এমন বৈষম্য কোনোভাবে কাম্য নয়।
এদিকে বাগেরহাট-৩ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোল্লা রহমত উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, গতকাল আমরা বক্তব্য পেশ করতে পারিনি। নির্বাচন কমিশন শুধু একটি দলের জন্যই কাজ করে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে আমাদের। ভোটার হিসাবকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের জন্য ইসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা আমাদের যৌক্তিক বলে মনে হয় না।
নির্বাচনের জন্য ৩০০টি আসনের মধ্যে ৩৯টির সীমানায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছে ইসি। কিন্তু নানা দাবি-আপত্তি ওঠে ৮৩টি আসনের বিষয়ে। এর মধ্যে সীমানায় পরিবর্তন আনা এবং বর্তমান সীমানা বহাল রাখার আবেদনও আছে। ১ হাজার ৭৬০টি আবেদনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৮৩টি এসেছে কুমিল্লা অঞ্চল থেকে। সবচেয়ে কম আবেদন পড়েছে সিলেট অঞ্চলে। আর তিনটি আবেদন পড়ে ময়মনসিং অঞ্চলে। ২৪ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ শুনানি চলবে চলতি মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত; এই চার দিন দাবি-আবেদন নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে ইসি।
