এক বন্দরে দাম কমে আরেক বন্দরে বাড়ে

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২২ এএম

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় আড়াই বছর পর ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। গত সোমবার রাতে প্রথম চালানে ১৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কাস্টমস ও বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চালানটি খালাস করা হয়। আমদানির প্রভাবে স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫-৭ টাকা কমেছে। এদিকে, দিনাজপুরের হিলিতে আমদানি কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আমদানি হওয়া ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ এবং দেশীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নিম্নআয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন।

বেনাপোলে আমদানি ও দাম হ্রাস : দেশ রূপান্তরের শার্শা প্রতিনিধি জানান, বেনাপোল দিয়ে পেঁয়াজ আমদানিকারক বাগেরহাটের এসএম ওয়েল ট্রেডার্স এবং রপ্তানিকারক ভারতের কোলকাতার ন্যাশনাল ট্রেডিং করপোরেশন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী শ্যামল কুমার নাথ জানান, প্রথম চালানে ১৫ টন পেঁয়াজের মান পরীক্ষার পর খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বেনাপোল কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার রাজন হোসেন জানান, আমদানি হওয়া পেঁয়াজের প্রতি টন মূল্য ৩০৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ৩৭ হাজার ৪২৯ টাকা। দ্রুত খালাসের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ক্রেতা বাবলুর রহমান বলেন, ‘আমদানি শুরুর প্রথম দিনেই বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমেছে। আগে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। এতে বোঝা যায়, মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেই দাম বাড়ানো হয়েছিল।’

হিলিতে দাম বৃদ্ধি : দিনাজপুরের হাকিমপুর প্রতিনিধি জানান, হিলি বাজারে আমদানি হওয়া ও দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ থাকলেও দাম ঊর্ধ্বমুখী। দুদিন আগে ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ৬০ টাকা। দেশীয় পেঁয়াজের দাম ৭০ থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। বিক্রেতারা জানান, আমদানি কমে যাওয়ায় বন্দরে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে, যা বাজারে প্রভাব ফেলছে।

হিলি বাজারের ক্রেতা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘দুদিন আগে ৫০ টাকায় ভারতীয় পেঁয়াজ কিনেছিলাম, এখন ৬০ টাকা। দেশীয় পেঁয়াজও ৭৫ টাকা। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর।’ অন্য ক্রেতা হায়দার আলী বলেন, ‘প্রতি দুদিনে ১০-১৫ টাকা দাম বাড়ছে। আমদানি হচ্ছে শুনেছি, তবু দাম কমছে না। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা শুধু দাম কমার দাবি জানাই।’

বাজার পরিস্থিতি ও সিন্ডিকেট : তথ্যমতে, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৭-২৮ লাখ টন, যেখানে গত বছর উৎপাদন হয়েছে ৩২ লাখ টন। গত দুই বছরে উৎপাদন বেড়েছে ৮ লাখ টন। তবে সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, যার জন্য আমদানির প্রয়োজন হয়।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘দেশীয় পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার আমদানি বন্ধ করেছিল। পরে ভারত রপ্তানি বন্ধ করে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও সিন্ডিকেটের কারণে দাম বাড়ছে। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানির অনুমতি দিয়েছে।’

হিলির পেঁয়াজ বিক্রেতা আবুল হাসনাত জানান, ‘দেশীয় পেঁয়াজের মৌসুম শেষের দিকে, তাই সরবরাহ কমেছে। আমদানি বন্ধ হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, ফলে দাম বাড়ছে। আমদানি স্বাভাবিক হলে দাম কমবে।’

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৭ আগস্ট হিলি দিয়ে আমদানি শুরু হলেও ১৯ আগস্ট থেকে সরকার অনুমতি বন্ধ করেছে। ফলে সীমিত আমদানি হচ্ছে, যা দাম বৃদ্ধির কারণ। আমদানির অনুমতি পেলে দাম কমবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত