রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের সময় বুধবার দুপুরে ১৩ দিন পিছিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হয়। সমালোচনার মুখে এদিন রাতে তারিখ পরিবর্তন করে ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে আজ দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠীর দিনে (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোট গ্রহণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছিল নির্বাচন কমিশন। প্রথমে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ সেপ্টেম্বর।
মহাষষ্ঠীর দিনে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করায় ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচনার মুখে আজ বুধবার সন্ধ্যা সাতটায় জরুরি সভায় বসে নির্বাচন কমিশন। সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচনের নতুন তারিখ ও তফসিল পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে আজ রাত সাড়ে ৯টার দিকে সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাষষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচনের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর পুনর্নির্ধারণ করা হলো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর কর্মদিবস থাকায় সেদিন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল জানিয়ে অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পূর্বনির্ধারিত ১৫ সেপ্টেম্বরই নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ছাত্রদের বিভিন্ন দাবি মানতে গিয়েই ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে।’
নির্বাচন কমিশন বলেছিল, ছাত্রদের দাবির প্রেক্ষিতেই একাডেমিক ভবনে ভোট-গ্রহণের সিদ্ধান্ত ও ডোপ টেস্ট করার জন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন, যা তাদের ধারণায় ছিল না। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় খোলা আছে এমন দিনেই তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে কে কবে বাড়ি যাবেন এটা কমিশনের দেখার বিষয় না।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো দল-মতের নেতারাই চাচ্ছে না, সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীকে বাদ রেখে নির্বাচন হোক। তারা বলছেন, সুকৌশলে পূজার ছুটির মধ্যে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে। এটি সুস্পষ্ট, কমিশন সনাতনীদের নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। এটি ষড়যন্ত্রের অংশ।
সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে; মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত; মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর, প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে ৮ সেপ্টেম্বর; প্রার্থীদের আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি ৯ সেপ্টেম্বর; মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ১৫ সেপ্টেম্বর; প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ১১ সেপ্টেম্বর।
