বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বিচারকাজ শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য শেষ হয়। আজ এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। এর আগে একই আদালত গত ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য এদিন (২৭ আগস্ট) ধার্য করেছিল ট্রাইব্যুনাল। গতকাল প্রসিকিউশনপক্ষে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ সময় ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। আজ মকবুল হোসেনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপস্থাপন, ২৪ জন পলাতক আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বিচারের আরজি জানান। শুনানি শেষে ঘটনার দিন (গত বছরের ১৬ জুলাই) বেরোবির সামনে আবু সাঈদকে গুলি করার ভিডিও এবং ঘটনার মুহূর্তের সিসিটিভির ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ছেলেকে গুলি করার ভিডিও দেখে কাঁদতে থাকেন।
সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৬ জুলাই বেরোবির সামনে পার্ক মোড়ে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে গুলি করে পুলিশ। শহীদ আবু সাঈদ বিশ^বিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। আবু সাঈদ হত্যার পর সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। হত্যাকা-ের প্রতিবাদে সোচ্চার হন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। আবু সাঈদ হত্যার তদন্ত শেষে গত ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ৩০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন বিশ^বিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য (ভিসি) মো. হাসিবুর রশীদসহ পলাতকদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে আদালত। এ মামলায় ছয় আসামি কারাগারে আছেন। গতকাল তাদের হাজির করা হয়।
