নারায়ণগঞ্জে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহতদের স্বজনদের আর্থিক সহায়তায়

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:২৭ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে নিহতদের স্বজনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। একইসঙ্গে যারা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও সহানুভূতি ও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিহতদের স্বজনদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি। এ সময় জেলা প্রশাসক আশ্বাস দেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত হাসান (৪০), তার স্ত্রী সালমা বেগম (৩৫), মেয়ে জান্নাত (৪) ও শিশু পুত্র ইমামুদ্দিন (১ মাস)—এই চারজনের জন্য হাসানের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলামের হাতে এক লাখ টাকা প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে হাসানের ১০ বছরের মেয়ে মুনতাহা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে; তার চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়।

অন্যদিকে নিহত গার্মেন্টস শ্রমিক আসমা (৩৫), তার কলেজপড়ুয়া মেয়ে তানজিনা আক্তার তিষা (১৭) ও শাশুড়ি তাহেরা বেগমের (৬০) জন্য তাদের স্বামী-অভিভাবক তানজীলুলের হাতে ৭৫ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়। এছাড়া তাদের ছেলে আরাফাত (১৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকায় তার চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়।

মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে আমরা সরকারি তোলারাম কলেজের একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করছি। অবহেলার কারণে সাতটি প্রাণ ঝরে গেছে। ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে হারাতে না হয় সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে নিহতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানাই।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সিদ্ধিরগঞ্জে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল ফ্রিজের গ্যাস বিস্ফোরণ থেকে আগুন লেগে নয়জন দগ্ধ হন। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে তাদের মধ্যে সাতজন মারা গেছেন। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে গাফিলতির দায় কার, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত