ভূ-রাজনৈতিক চরম অনিশ্চয়তার এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-পরবর্তী সময়ে বিশ্ব ব্যবস্থার অভিভাবক হিসেবে বেইজিংকে দেখতে চাওয়া চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আজ দেশটির ইতিহাসের; সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজন করতে যাচ্ছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের ৮০ বছর উদযাপনে আাজ বুধবার তার ‘বিজয় দিবসের’ আয়োজনে অংশ নিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন থেকে শুরু করে বিচ্ছিন্নপ্রায় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনসহ ২০ জনের বেশি বিশ্বনেতা বেইজিংয়ে জড়ো হচ্ছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সুশৃঙ্খল ও সমন্বিত এ প্রদর্শনীর লক্ষ্যই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভূমিকা নিয়ে সন্দেহের মধ্যে চীনের সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক দক্ষতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা। চীনের এই সামরিক কুচকাওয়াজ এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা সমানে কমাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন এবং শত্রু-মিত্র সবার ওপর শুল্কযুদ্ধের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন।
পুতিন ও কিমসহ বিশ্বনেতাদের পাশে নিয়ে কুচকাওয়াজে শি-র নজিরবিহীন এ উপস্থিতির মধ্যেই চীন তাদের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে ড্রোনের মতো সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তি দেখাবে। তুলে ধরবে পশ্চিমাদের চ্যালেঞ্জ জানানো নতুন বিন্যাসের অক্ষের শক্তি। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গতকাল মঙ্গলবার ভোরেই নিজের বিশেষ ট্রেনে চেপে চীনে ঢুকেছেন কিম। এটা হতে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়ার এ শীর্ষ নেতার প্রথম কোনো অনুষ্ঠান, যেখানে ডজনের বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান উপস্থিত থাকছেন। ৬৬ বছরের মধ্যে চীনের কোনো সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া প্রথম উত্তর কোরীয় নেতাও হতে যাচ্ছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর চায়না অ্যানালিসিসের চীনা রাজনীতি বিশেষজ্ঞ নিল থমাস বলছেন, ভøাদিমির পুতিন, মাসুদ পেজেশকিয়ান ও কিম জং উনের উপস্থিতি বিশ্বের শীর্ষ কর্র্তৃত্ববাদী শক্তি হিসেবে চীনের ভূমিকাকে ফুটিয়ে তুলেছে। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের কুচকাওয়াজের তুলনায় এবারের অনুষ্ঠানে মধ্য, পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নেতার উপস্থিতি বেশি, যা বোঝাচ্ছে আঞ্চলিক কূটনীতিতেও বেইজিং বেশ ভালোই অগ্রসর হয়েছে।
আজকের আয়োজন স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হবে বলে জানিয়েছে চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। অনুষ্ঠানে দুই পশ্চিমা নেতাও থাকছেন। সেøাভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এবং সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ। এ দুজনই ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচক। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর চলতি জুনে ট্রাম্পও একটি সামরিক কুচকাওয়াজ করেছিলেন, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভও হয়েছে। মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট নিয়মিতই শি, পুতিন ও কিমের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে বলে দাবি করে যাচ্ছেন, যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো কূটনৈতিক ‘ব্রেক থ্রু’ তিনি আনতে পারেননি। গত সোমবার চীনের বন্দরনগরী তিয়ানজিনে শেষ হওয়া দুইদিনের সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে জড়ো হওয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর নেতাদের শি আরও সাম্য, বহু মেরুর বিশ্বের পক্ষে অবস্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘সঠিক ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি’ তুলে ধরতে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
