থিয়েটারপাড়ায় চলছে স্পর্ধা ইন্ডিপেনডেন্ট থিয়েটারের সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উৎসব। গত ৮ আগস্ট ‘পূর্বরঙ্গ’ পর্ব দিয়ে এই উৎসব শুরু হয়েছে। আজ থেকে শুরু হবে ‘উত্তাল তরঙ্গ’ শীর্ষক দ্বিতীয় পর্ব। উত্তাল তরঙ্গ পর্বে থাকবে তিনটি নাট্য প্রযোজনা, ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’, ‘তবুও জেগে উঠি’ এবং ‘বিস্ময়কর সবকিছু’। আজ শুক্রবার এবং কাল শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে প্রতিদিন বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৭টায় থাকবে বহুল আলোচিত ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ নাটকের প্রদর্শনী।
একাত্তরের বীরাঙ্গনাদের নিয়ে ১৯৯৪ সালে ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ নামে একটি বই লিখেছিলেন নীলিমা ইব্রাহিম। প্রায় তিন দশক পর সেই বই অবলম্বনে একই নামে মঞ্চনাটক নিয়ে হাজির হন সৈয়দ জামিল আহমেদ। মাঝে দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৭ সালে রিজওয়ান দিয়ে মঞ্চে ফেরেন তিনি। এরপর ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর গঠিত হয় নাট্যদল স্পর্ধা। এরপর জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, ৪ দশমিক ৪৮ মন্ত্রাস, বিস্ময়কর সবকিছু মঞ্চে এনেছেন তিনি।
নাটকে এক বীরাঙ্গনা চরিত্র মেহেরজান। অল্প বয়সী মেহেরজান শরীর কী, তা বুঝে ওঠার আগেই তাকে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে নির্যাতিত হতে হয়েছে। তার হৃদয়ের অন্তহীন হাহাকার আর আর্তনাদ দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়। এই চরিত্রে মঞ্চাভিনয় করেছেন মহসিনা আক্তার। আরেক বীরাঙ্গনা ময়না চরিত্রে অভিনয় করছেন শারমিন আক্তার শর্মী। এতে আরও অভিনয় করেছেন বুড়ী আলী, শ্রাবণী ফেরদৌস, আরমীন মূসা, সোহেল রানা, সরওয়ার জাহান, সিফাত নওরীন, জৌপারী লুসাই, রিয়াসাত সালেকিন ও উম্মে আইমান।
নির্দেশনার পাশাপাশি মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা এবং সংগীতও নির্বাচন করেছেন সৈয়দ জামিল আহমেদ। ড্রামাটার্গ ও পোশাক পরিকল্পনায় মহসিনা আক্তার, সহকারী নির্দেশনায় এমএস রানা, সংগীতে থাকছেন আরমীন মূসা ও ঘাসফড়িং কয়্যার।
নারী জাগরণের গল্প নিয়ে মহসিনা আক্তারের নির্দেশনায় তৈরি হয়েছে ‘তবুও জেগে উঠি’। নাটকটির তিনটি প্রদর্শনী হবে উৎসবে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা এবং ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে দেখা যাবে নাটকটি। ১২ সেপ্টেম্বর বাতিঘর আর্ট স্পেসে প্রদর্শিত হবে বিস্ময়কর সবকিছু। ব্রিটিশ নাট্যকার ডানকান ম্যাকমিলানের নাটক ‘এভরি ব্রিলিয়ান্ট থিং’ অবলম্বনে এর অনুবাদ করেছেন ও নির্দেশনা দিয়েছেন সৈয়দ জামিল আহমেদ। মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক নাটকটিতে অভিনয় করেছেন মহসিনা আক্তার। এ ছাড়া উত্তাল তরঙ্গে পর্বে রয়েছে চারটি কর্মশালা ও একটি বাহাস।
উৎসবের শেষ পর্ব ‘অন্তিম ভাটি’ শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকবে ট্রেকিং অভিজ্ঞতাজাত প্যারাথিয়েটার। ঢাকা থেকে একটি দল নিয়ে দুর্গম কোনো অঞ্চলে প্রকৃতির মধ্যে প্যারাথিয়েটার করা হবে।
