সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের ডিডি শাহবাজপুর গ্রামে র্যাবের ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পানিতে ডুবে শাওন রেজা (২৪) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২ এর একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসি। এছাড়া করপরাল মো: হাবিব নামে এক র্যাব সদস্যকে ধরে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে গ্রামবাসি।
গত রবিবার( ৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাওন রেজা ওই গ্রামের নুরুল ইসলাম ও শিরিন খাতুন দম্পতির ছেলে। মৃত্যুকালে শাওন স্ত্রী, ১৮ মাসের এক ছেলে, মা, বাবা সহ আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।
সোমবার(৮ সেপ্টেম্বর) নিহত শাওন রেজার বাবা নুরুল ইসলাম ও স্বজনেরা জানান, রবিবার সন্ধ্যায় দু‘টি মোটরসাইকেলে ৪ জন সাধারণ পোশাকে র্যাব সদস্যরা এসে তাদের পরিচয় না দিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের নামে ডিডি শাহবাজপুর গ্রামের নাজমুল হাসান(২৪) নামের এক যুবককে ধরে মারধর করতে থাকে।
এ সময় পাশের দোকানে বসে থাকা শাওন রেজা বিষয়টি টের পেয়ে ভয় পাশের ফুলজোড় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পানিতে ডুবে অবচেতন হয়ে যায়। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসি র্যাবের একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় ও করপরাল মো: হাবিব নামের এক র্যাব সদস্যকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
নিহত শাওন রেজার বাবা নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, র্যাব সদস্যরা নাজমুল নামের একজনকে ধরে মারপিট করছিলো। এ সময় আমার ছেলে ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয়। ছেলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে হাত তুলে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে। আমি দেখে ছেলেকে উদ্ধার করতে নদীতে নামার চেষ্টা কালে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ পোশাকের চার জন র্যাব সদস্য আমাকে কিছুতেই নদীতে নামতে দেয়নি। যখন আমার ছেলের আর কোন সাড়া শব্দ নেই, তখন জোর করেই আমি নদীতে নেমে পরি।
ততক্ষণে আমার ছেলে অচেতন হয়ে নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ছেলের পা ধরে সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় ছেলেকে নদী থেকে টেনে ওঠাই। ওই সময় নদীর মধ্যে থেকেই আমি গ্রামের লোকদের বলি ওই লোকগুলোই আমার ছেলেকে মেওে ফেলেছে হত্যা ওদেরকে সবাই ধরো। তখন চারজনের মধ্যে তিনজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। আর একজনকে গ্রামবাসি ধরে পুলিশে দেয়। তিনি আরও বলেন, রাতে পুলিশ কাগজে কি যেন লিখে এনে নিচে আমার স্বাক্ষর নিয়েছে। সেখানে কি লেখা আছে আমি জানি না। আমার ছেলেকে হত্যার আমি উপযুক্ত বিচার পাই।
কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মমিন উদ্দিন জানান, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে পানিতে তলিয়ে যাওয়া এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
কামারখন্দ থানার ওসি আব্দুল লতিফ জানান, খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে নিহত শাওনের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, নিহত ওই যুবকের নামে গত তিন বছর আগের একটি মাদক মামলা রয়েছে। কোনো র্যাব সদস্যকে থানায় সোপর্দ করা হয়নি। তবে শুনেছি র্যাব-১২ এর একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন কিছু পাইনি।
সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আহসান হাবিব সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বলেন, রবিবার কামারখন্দে র্যাবের কোনো অভিযান ছিল না। র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের মাঠকর্মীরা মাদক সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য কামারখন্দে যায়। মূলত তাদের দেখে ভয়ে ওই যুবক নদীতে ঝাঁপ দেয়। এরপর ডুবে মারা যায়। তিনি বলেন, কিছু গ্রামবাসি র্যাবের একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একমঞ্চে প্রকৃত ‘পঞ্চপান্ডব’
আড়াইহাজারে যুবক খুন