সাবেক সচিব ভূঁইয়া মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত সোমবার রাতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আনন্দলোক ইকো রিসোর্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনা হয়। গতকাল মঙ্গলবার তাকে শাহবাগ থানায় আগে দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পাঠানো এক খুদে বার্তায় বলা হয়, ভূঁইয়া মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের আরও ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।
এর আগে গত রবিবার রাতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খানকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাত ১টার দিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার একটি রিসোর্ট থেকে সাবেক সচিব শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ‘মঞ্চ ৭১’-এর অনুষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্যদের সঙ্গে তার যোগসাজশের তথ্য পাওয়া গেছে। শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গতকাল দুপুরে সাবেক এ সচিবকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, আসামি শফিকুল ইসলাম মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার পরামর্শ ও সহযোগিতায় ‘মঞ্চ ৭১’ নামক সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ ঘটে। আসামি এ মামলার এজাহারনামীয় আরেক আসামি লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্য আসামিদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে গোপন বৈঠক ও যোগাযোগ করেছেন মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটি তদন্তাধীন।
আসামি জামিনে মুক্তি পেলে রাষ্ট্র তথা সরকারের বিরুদ্ধে পুনরায় যড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে এবং মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাবে। এমতাবস্থায় মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামির নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীকালে ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিকে পুলিশ রিমান্ডে পাওয়ার আবেদন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ছিলেন। পরে ২০১৫ সালে তাকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব করা হয়।
এদিকে ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সচিব ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের আরও ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী হারুন, ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা মো. ওয়ারেছুর রহমান, কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান ও মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ মিয়া রতন শিকদার, কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মুফতি ইলিয়াস মাহমুদ কাসেমী ওরফে রাসেল, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মহিউদ্দিন মাতবর সাগর, লক্ষ্মীপুর জেলা রামগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা ও দরবেশপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী শাহাদাত হোসেন রুবেল। তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
