ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) খুব সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। সব নির্বাচনেই ছোটখাটো অভিযোগ থাকে। এগুলো সাংগঠনিক অভিযোগ। কিন্তু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ, গণনা এবং ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি।
এ নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব অবশ্যই আগামীর রাজনীতিতে পড়বে। কেননা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা যে পথে চলে, সে পথে দেশ চলারও একটা প্রবণতা তৈরি হয়। ডাকসু আগামী রাজনীতির গতিপথ তৈরি করতে পারে। ছাত্রদল এই নির্বাচনে ব্যাপকভাবে পরাজিত হয়েছে। এটা কোনো ছোটখাটো পরাজয় নয়। এর বেশ কয়েকটি কারণ আমার সামনে এসেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ২৪-এর পর ছাত্রদল আওয়ামী লীগবিরোধী নতুন কোনো বয়ান তৈরি করতে পারেনি, যাতে তরুণ শিক্ষার্থীরা আকৃষ্ট হবে। তারা ৭১-এর পুরনো সেই আওয়ামী বয়ান দিয়েছে। যে কারণে শিক্ষার্থীরা আকৃষ্ট হয়নি। ৭১ নিয়েও আরও নতুন বয়ান তৈরি করা যেত। ৭১-পরবর্তী সময়েরও অনেক কিছু আছে। তারা সেগুলোতে না গিয়ে আওয়ামী লীগের পথে হেঁটেছে। এর বিপরীতে ছাত্রশিবির তাদের আওয়ামীবিরোধী বয়ানে বয়ানে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে পেরেছে।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক দুর্বলতা আছে। সাধারণ মানুষ বা শিক্ষার্থীরা আকৃষ্ট হয়, এমন কোনো কর্মকা- তাদের নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও তরুণদের আকৃষ্ট করার মতো তাদের কোনো কর্মকা- আমার চোখে পড়েনি।
ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব যদি মেধাবীদের হাতে না থাকে, ছাত্রদের হাতে না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীরা সেই সংগঠনকে গ্রহণ করে না। ছাত্রদলে সেরকম নেতৃত্ব নেই। যদিও ছাত্রদল বা বিএনপি আমার এ কথায় অসন্তুষ্ট হবে।
আমিও ছাত্ররাজনীতি করতাম। আমাদের কথা বা বক্তৃতা শুনে মানুষ আকৃষ্ট হতো। কিন্তু এখনকার ছাত্রনেতাদের মধ্যে এটা কমে গেছে।
শিক্ষার্থীদের নৈকট্য অর্জনের জন্য তাদের সঙ্গে মিশতে হয়। তাদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে খাওয়াদাওয়া সব বিষয়ে নজর রাখতে হয়। সব সমস্যা হয়তো সমাধান করা যাবে না, কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে। শিবিরের রাজনীতির নানান বদনাম থাকলেও তারা শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যার দিকে নজর রাখে এবং সমাধান করার চেষ্টাও করে।
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ঢাবির সাবেক অধ্যাপক
