নানা অনিয়ম অভিযোগ ও তিন শিক্ষকসহ পাঁচ প্যানেলের নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে হয়ে যাওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে ঢিমেতালে। ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মাত্র চারটি হলের ভোট গণনা শেষ করতে পেরেছেন নির্বাচনি কর্মকর্তারা। একে একে গণনা করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হল ছাত্র সংসদের ভোট।
বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে সিনেট ভবনে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা ভোট গণনা কক্ষে কাজী নজরুল ইসলাম, মীর মশাররফ হোসেন, আ ফ ম কালাম উদ্দিন হল ও শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। আর শেষ পর্যায়ে রয়েছে ভাষানী হলের ভোট গণনা।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় ভোট শেষে হলের কেন্দ্রগুলো থেকে বাক্সগুলো সিনেট ভবনে আনা হয়। পরে রাত ১০টার কিছু পরে শুরু হয় ভোট গণনা। সবার আগে কাজী নজরুল ইসলাম ও মীর মশাররফ হোসেন হলের বাক্স খুলে গণনা শুরু হয়।
ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা করার কারণে এ ফল পেতে আগামীকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক রশিদুল আলম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ম্যানুয়ালি এই ভোট গণনা শুরু হয়। ভোট গণনার প্রক্রিয়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে।
রশিদুল আলম বলেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা করা হবে। ফলাফল পেতে তাই আগামীকাল সকাল বা দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।’
সিনেট ভবনে কর্মকর্তারা ঘোষণা দেন, একসঙ্গে দুটি করে হলের ভোট গণনা করা হবে। প্রথমে হল সংসদের, এরপর কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা হবে।
সিনেট হলে পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে চলছে ভোট গণনা। যেখানে শুধু হল সংসদের প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরা উপস্থিত রয়েছেন। এরপর কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনার সময় তাদের পোলিং এজেন্টদের ডাকা হবে।
একটি একটি করে হলের ফল গণনা শেষ হলেও সেটির প্রাথমিক ফলও বাইরে অপেক্ষমান প্রার্থী কিংবা সংবাদমাধ্যমকে বলা হচ্ছে না। পরে একসঙ্গে ফল ঘোষণা করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে।
সিনেট ভবনের হলের বাইরে অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী, কিছু প্রার্থীদের প্রতিনিধিকে অপেক্ষমান দেখা গেছে, সঙ্গে রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। ভবনের বাইরে মধ্যরাত অবধি বেশকিছু শিক্ষার্থীর সমাগম দেখা যায়। অনেকে গান-বাজনা করে সময় কাটাচ্ছিলেন। তবে ভোট গণনায় ধীরগতির কারণে তারা পর্যায়ক্রমে এলাকা ছেড়ে যান।
সবশেষ অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী সিনেট ভবন এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। আর রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য।
৩৩ বছর পর জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সকাল ৯টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। জাকসুতে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৭ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ এবং ছাত্র ৬ হাজার ১৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৫টি পদে লড়ছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। একই সঙ্গে ২১টি হল সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী ৯ জন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন।
জাকসুতে মোট সাতটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে চারটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ও তিনটি আংশিক প্যানেল রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ প্যানেলগুলো হলো ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল, ছাত্রশিবির–সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ–সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম। আংশিক প্যানেল দিয়েছে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন, স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ এবং ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের সংশপ্তক পর্ষদ। এ ছাড়া অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন।
সকাল আটটা থেকেই রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন্দ্রগুলোয় প্রস্তুতি নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে তারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ফটক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলের ২২৪টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০টি ছাত্রী হল ও ১১টি ছাত্র হল। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৬৭ জন পোলিং কর্মকর্তা ও ৬৭ জন সহকারী পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। ভোটাররা কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৪০টি ব্যালটে ভোট দেন (টিক চিহ্ন)।
শুরুতে উপস্থিতি কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে পুলিশ, আনসার, আর্মড পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুই হাজারের বেশি সদস্য সাদাপোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন।
