সমাজে তরুণ-তরুণীদের একটি বড় অংশের মনে এ প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, ‘আমি এত দিনেও কেন বিয়ে করতে পারলাম না? আল্লাহ কি আমার ওপর অসন্তুষ্ট?’ বিশেষ করে যখন বয়স কিছুটা বেড়ে যায় বা আশপাশের সবাই ঘর বাঁধতে শুরু করে, তখন এই অস্থিরতা ও হতাশা আরও বাড়ে। অথচ ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি এত নেতিবাচক নয়, বরং এতে রয়েছে নানারকম প্রজ্ঞা ও আল্লাহর রহমত।
প্রথমেই মনে রাখতে হবে, এখনো অবিবাহিত থাকা মানেই আপনার মধ্যে কোনো ত্রুটি আছে, তা নয়। মানুষকে আল্লাহ ভিন্ন ভিন্ন গুণ ও বৈশিষ্ট্যে সৃষ্টি করেছেন। কারও উচ্চতা কম, কেউ লাজুক, কারও আবার শারীরিক কোনো সমস্যা থাকতে পারে। সমাজে বিবাহিত দম্পতিদের দিকে তাকালে দেখা যাবে, বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলো কখনো সমাজের বানানো সৌন্দর্যের মানদণ্ডে গড়ে ওঠে না। বিয়ে হতে পারে যেকোনো বয়সে, যেকোনো সময়ে। এটি নির্ভর করে আল্লাহর দেওয়া নির্ধারিত তকদিরের ওপর।
অনেক সময় আল্লাহ বিলম্বিত করেন কেবল আমাদের কল্যাণের জন্য। হয়তো এই মুহূর্তে আমরা মানসিক বা আর্থিকভাবে প্রস্তুত নই। হয়তো আল্লাহ আমাদের জীবনে আগে কিছু অভিজ্ঞতা, শিক্ষা বা দাওয়াতি কাজের সুযোগ দিতে চান, যা ভবিষ্যতে বিবাহিত জীবনে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। আবার হতে পারে, এ বিলম্ব আসলে আমাদের জন্য আরও বড় বিপদ থেকে রক্ষা করার উপায়। যেমন অল্প বয়সে বিয়ের পর দ্রুত বিচ্ছেদের কষ্ট, সন্তান-সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা মানসিক আঘাত।
এ ছাড়া বিলম্ব আমাদের ভেতরে বিনয় ও ধৈর্য বাড়ায়। অনেক সময় দেখা যায়, যাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বা জনপ্রিয় মনে করা হতো, তারাই অনেক পরে বিয়ে করেন। এতে তারা আরও বিনয়ী ও বাস্তবমুখী হয়ে ওঠেন। আর এই অপেক্ষার মধ্যে আল্লাহর দরবারে ক্রমাগত দোয়া করার সুযোগও থাকে, যা বান্দাকে তার নৈকট্যের দিকে টেনে আনে।
জীবনে যেকোনো নেয়ামত দেরিতে পেলে তা আরও বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে। অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থতাকে যেমন বেশি করে মূল্য দেয়, তেমনি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া সংসার, জীবনসঙ্গী ও সন্তান হয়ে ওঠে এক অমূল্য আশীর্বাদ। তাই অবিবাহিত থাকা মানেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি নয়, বরং এটি হতে পারে একটি পরীক্ষা, একটি প্রস্তুতির সময় কিংবা আরও বড় কল্যাণের পূর্বাভাস। আল্লাহর পরিকল্পনা সবসময় শ্রেষ্ঠ। আর তার দেরি কখনো অযথা নয়।
