সফলতা অর্জনে কোরআনের নির্দেশনা

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩১ এএম

সবাই সফল হতে চায়। কেউ শিক্ষা, কর্মজীবন বা ব্যবসায় সাফল্য অর্জনকে বড় মনে করে। আবার কেউ সামাজিক মর্যাদা বা অর্থ-সম্পদকে সফলতার মানদণ্ড ভেবে নেয়। প্রশ্ন হলো, প্রকৃত সফলতা কী? এটি কি কেবল ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াবি অর্জনে সীমাবদ্ধ, নাকি এর বাইরেও কোনো উচ্চতর সাফল্যের ধারণা আছে? মানুষের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, দুনিয়ার অনেক কিছু অর্জন করলেও অন্তরে শান্তি থাকে না। আবার কখনো সামান্য কিছু নিয়েও কেউ পরিপূর্ণতা অনুভব করে। এ থেকেই বোঝা যায়, প্রকৃত সফলতার মাপকাঠি মানুষের নিজস্ব ধারণায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঠিক সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়েছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সফলতার মূলনীতি সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। কোরআনের আলোকে সফলতা কেবল দুনিয়ার সাময়িক সুখ-সমৃদ্ধিতে সীমিত নয়, বরং তা আখেরাতের চিরস্থায়ী কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করে। দুনিয়া হলো পরীক্ষা ক্ষেত্র, আর আখেরাত হলো এর ফলাফল পাওয়ার স্থান। তাই যাদের জীবন আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্যের আলোকে গড়ে ওঠে, তারাই প্রকৃত সফলকাম। নামাজ কায়েম করা, জাকাত দেওয়া, সৎকাজে উৎসাহিত করা, অন্যায় থেকে বিরত রাখা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করা, আত্মীয়স্বজন ও অভাবগ্রস্তের হক আদায় করা, এসব গুণাবলি কোরআনে সফলতার নিশ্চয়তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোরআনে স্পষ্ট করা হয়েছে, সফলতার পথে বাধাস্বরূপ কাজগুলো থেকেও বিরত থাকতে হবে। যেমনÑ মদ, জুয়া, গুনাহ, অন্যায়-অবিচার। যারা এসব থেকে দূরে থাকে, আন্তরিক তওবা করে এবং আল্লাহর বিচারে নিজেকে সোপর্দ করে দেয়, তারাই মুক্তি ও কল্যাণ লাভ করবে। অর্থাৎ কোরআনের দৃষ্টিতে সফলতা হলো এমন এক পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন, যা মানুষের অন্তর, কর্ম ও সমাজ, সবকিছুকে ইতিবাচকভাবে গড়ে তোলে।

সুতরাং সফলতা অর্জনের জন্য কেবল দুনিয়াবি পরিকল্পনা বা ব্যক্তিগত প্রজ্ঞাই যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে ইমান, সৎকর্ম, নৈতিকতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টা। কোরআন আমাদের সেই পথনির্দেশ দেয়, যা অনুসরণ করলে মানুষ পরিপূর্ণ সফলতার যোগ্য হয়ে ওঠে। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীর আলোকে নিজের জীবনকে সাজায়, তার সফলতা ক্ষণস্থায়ী নয়, বরং চিরস্থায়ী জান্নাতের আনন্দে রূপান্তরিত হয়। কোরআনের এই শিক্ষা মানবসভ্যতাকে প্রকৃত সফলতার দিকে আহ্বান জানায় এবং দুনিয়া-আখেরাত উভয়ের শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করে।

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও প্রবন্ধকার

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত