নরসিংদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:৩৮ পিএম

নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্জল আলোকবালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত এবং অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম ও বহিষ্কৃত সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম মিয়া গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় নরসিংদী সদর হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ কালে বিএনপির একপক্ষের হামলায় যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার আইয়ুব খান সরকার আহত হয়েছে। 

নিহত ইদন মিয়া (৭০) মুরাদনগর গ্রামের বাসিন্দা। তবে, প্রাথমিকভাবে আহতদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় নি।

স্থানীয়রা বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উভয় গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দলীয় বিভাজন তৈরি হয় এবং বিভাজন থেকে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে সংঘর্ষের রূপ লাভ করে।

জানা যায়, নদী থেকে বালু উত্তোলন, দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম ও সম্প্রতি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার একই কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম মিয়া পরস্পর বিরোধে জড়ায়। পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচিতেও তারা পৃথকভাবে পালন করেন। বিরোধের ধারাবাহিকতায় উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবিদ্ধ হয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে একজন মারা যায় এবং অন্তত ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়। 

এদিকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য হাসপাতাল কম্পাউন্ডে অবস্থান করছিলেন আইয়ুব খানসহ সকল সংবাদকর্মীরা। এ সময় আলোকবালি ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক কাইউয়ুমকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তার সমর্থকরা। একপর্যায়ে তাকে বিভিন্ন লাঠিসোটা দিয়ে উপুর্যপরি আঘাত করলে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে অন্যান্য সাংবাদিক ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালের ভিতরে আশ্রয় নেয় তিনি।

আহত সাংবাদিক আইয়ুব খান সরকার বলেন, আমি বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে হাসপাতালে যাই এবং সংবাদ অফিসে পাঠাই। এই সংবাদ ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য সচিব কাইয়ুম সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়ায় তার লোকজন আমার উপর হামলা চালায়। লাঠি দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে ফেলছে। আমি তাদের বিচার চাই। 

সদর হাসপাতালের আরএমও ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ঘটনার পরে তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার মাথার ডান পাশে চারটি সেলাই দেয়া হয়েছে। মাথায় ইনজুরির কারণে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নরসিংদী মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ এমদাদুল হক বলেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত