নির্বাচন নিয়ে জরিপ

পিআর সম্পর্কে জানেই না ৫৬ শতাংশ মানুষ

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:২৫ এএম

দেশের ৫৬ শতাংশ মানুষ জানেই না সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন আসলে কী। আর পিআর পদ্ধতি চান ২১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং চান না ২২ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে ৯৪ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন তারা ভোট দিতে আগ্রহী। ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকার একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সক্ষম হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইনোভেশন কনসালটিং নামের একটি বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের এক জরিপে এমন তথ্য উঠেছে। গতকাল রবিবার ফার্মগেটে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ভবনে ‘জনগণের নির্বাচন ভাবনা’ নিয়ে দ্বিতীয় দফার প্রথম পর্বের জরিপের ফল প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

জরিপের ফল ধরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষের ভোট দিতে চাওয়া মানে সামনে ইনক্লুসিভ নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, পিআর নাকি বিদ্যমান পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে, সে সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলোই নেবে। এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য কম হওয়াই শ্রেয়।

চলতি মাসের ২ তারিখ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়, তাতে অংশ নেয় ১০ হাজার ৪১৩ জন ভোটার। আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপের ফল তুলে ধরেন ইনোভেশন কনসালটিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াত সারোয়ার।

জরিপের ফলে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত এমন মত দিয়েছেন ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার। পিআর পদ্ধতির বিষয়ে প্রবীণ প্রজন্মের তুলনায় নবীনরা বেশি সচেতন। আর এ বিষয়ে তাদের মনোভাব অধিক ইতিবাচক।

জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মক্ষমতার প্রতি ইতিবাচক ধারণা রয়েছে; ৭৮ দশমিক ৭ শতাংশ এটিকে ‘ভালো’ বা ‘মধ্যম’ হিসেবে দেখছে। তবে তরুণ, শিক্ষিত ও শহুরে জনসংখ্যার মধ্যে সন্তুষ্টির হার তুলনামূলকভাবে কম। ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশের ধারণা, তারা নির্ভয়ে ও নিরাপদে ভোট দিতে পারবে। ভোটের সময় পুলিশ-প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রবীণ প্রজন্মের তুলনায় জেন-জি প্রজন্ম কম ইতিবাচক।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৫৬ শতাংশ। গত ছয় মাসে চাঁদাবাজি বেড়েছে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ধারণা শহুরে বাসিন্দা, তরুণ প্রজন্ম এবং উচ্চ শিক্ষা ও আয়ের স্তরের লোকদের মধ্যে বেশি স্পষ্ট।

অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকা-কে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন ৭৮ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা। তবে স্বল্পশিক্ষিত উত্তরদাতাদের তুলনায় উচ্চশিক্ষিতরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাজে কম সন্তুষ্ট। অন্যদিকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলো নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতার বিষয়ে তুলনামূলক কম ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত