ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে নানা অসঙ্গতি ও অনিয়মের ১১টি অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। গতকাল সোমবার মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, সদ্য অনুষ্ঠিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন নানা অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাদের ১১ দফা অভিযোগ হলো, ভোটারদের উপস্থিতির আগেই তালিকায় স্বাক্ষর, ব্যালট সরবরাহ ও জালিয়াতি। ভোটার উপস্থিতি ও ভোটের হারে অসামঞ্জস্য থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিসিটিভি ফুটেজ ও ভোটার তালিকা প্রকাশে কালক্ষেপণ করছে; ব্যালট পেপারে ক্রমিক নম্বর ছিল না। ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত ব্যালটের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি; কোন প্রেস থেকে ব্যালট ছাপানো হয়েছে তা জানানো হয়নি। নীলক্ষেতে অরক্ষিত অবস্থায় ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। ভোট গণনা মেশিন ও সফটওয়্যার যাচাইয়ের সময় প্রার্থীদের অবহিত করা হয়নি; ভোটের আগের রাতে পোলিং এজেন্ট তালিকা প্রকাশ করে অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে; যথাসময়ে আইডি না দেওয়ায় বহু পোলিং এজেন্ট ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি; ঘোষণার বিপরীতে ৮টি এরিয়ায় ১৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হওয়ায় অধিকাংশ প্রার্থী এজেন্ট দিতে পারেননি; পোলিং অফিসার নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল অস্পষ্ট। আচরণবিধি না জেনে অনেকেই ভুয়া অভিযোগ তুলেছেন; বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও গার্লস গাইডের কিছু সদস্য পক্ষপাতমূলক ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ আছে; ভোটগণনায় এজেন্টদের নিষ্ক্রিয় রাখা হয়। এ কারণে অধিকাংশ প্রার্থীর এজেন্ট রেজাল্ট শিটে সই না করে কেন্দ্র ত্যাগ করেছেন; স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স না থাকায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া মার্কার পেনের বদলে বলপেন ব্যবহার করায় অনেক ভোট অকার্যকর হয়েছে। আঙুলের কালি অস্থায়ী হওয়ায় একই ব্যক্তি একাধিক ভোট দিয়েছেন কি না সে সন্দেহও দেখা দিয়েছে।
ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, এসব বিষয়ে বারবার অবহিত করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এই নির্বাচন ইতিহাসের পাতায় একটি নেতিবাচকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হিসেবে ঠাঁই পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পথে ফিরে এসে অভিযোগগুলো তদন্ত করবে এবং সত্য সবার সামনে তুলে ধরবে।
এ সময় ছাত্রদল মনোনীত ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জিএস পদপ্রার্থী তানভীর বারী হামীম এবং এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদসহ অন্যরা।
