সংস্কারের এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের  নেই : সুশীলা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:১২ এএম

নেপালের শাসনব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনার এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই বলে মন্তব্য করেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি। সরাসরি নির্বাচিত নির্বাহী ব্যবস্থাসহ আরও কিছু বিষয়ে তরুণদের দাবির প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বলেন, শাসনব্যবস্থায় কোনো সংস্কার বা পরিবর্তনের এখতিয়ার বর্তমান সরকারের নেই। এমন কোনো পরিবর্তন এই সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সংশোধন হতে হবে। বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

অভিবাসীদের ভোটগ্রহণের বিষয়ে কার্কি বলেছেন, বিদেশে কর্মরত নেপালিদের ভোট প্রদানের সুযোগ দেওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা ও প্রবাসী নেপালিদের সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য দাবি সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী কার্কি সব নাগরিককে আসন্ন নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যোগ্য প্রতিনিধিদের বেছে নিতে উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সুশিলা কার্কি একাধিকবার উল্লেখ করেছেন যে ২০২৬ সালের ৫ মার্চ নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করাই তার অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বর্তমানে নেপাল একটি সংসদীয় ব্যবস্থা অনুসরণ করে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয়। সরাসরি নির্বাচিত নির্বাহী প্রধান পেতে হলে নেপালের সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এ ধরনের সংশোধনের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ বিলুপ্ত থাকায় আগামী বছরের ৫ মার্চের নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান সংশোধন সম্ভব নয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠনও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘অবৈধ প্রক্রিয়ায়’ সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত হবে না। তবে জেন-জি তরুণদের অবস্থানে একতা নেই। একাংশের দাবি, মার্চের নির্বাচনের আগেই শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা উচিত। অন্যদিকে আরেকটি অংশের মতে, সংবিধান সংশোধন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নতুন সংসদের।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী কার্কি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ভোটার নিবন্ধন আইন সংশোধনের জন্য অধ্যাদেশ জারির পর নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার নিবন্ধন পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব যোগ্য নেপালি নাগরিক আগামী নভেম্বরের মধ্যভাগ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, তার সরকার নাগরিকদের যেন হয়রানি, অযথা বিলম্ব বা ঘুষের প্রয়োজন ছাড়াই সরকারি সেবা গ্রহণের সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত, সম্মানজনক ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা নিশ্চিত করতে। কার্কি জানান, তার সরকার দুর্নীতি হ্রাস, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত