বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরশাসনের পথে ফিরবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, দলমত নির্বিশেষে গঠিত ঐকমত্যের ভিত্তিতেই দেশের গণতন্ত্র ও সংস্কার কার্যক্রম টেকসইভাবে এগিয়ে যাবে। জনগণের আত্মত্যাগে অর্জিত ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে আর কোনো শক্তি বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে গতকাল শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলায় ভাষণ দেওয়া শুরু করেন তিনি। ভাষণে এসব কথা বলেছেন মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে নাগরিকবান্ধব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আগামী নির্বাচনে যে দলই জনগণের সমর্থন পাক না কেন, সংস্কার বাস্তবায়নে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না বলেও জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তার স্পষ্ট ভাষা, বাংলাদেশের গণতন্ত্র আর কখনো হুমকির মুখে পড়বে না।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে দেশ গড়ার সুযোগ দিয়েছে, ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকে গড়ে তুলতে দরকার ছিল ব্যাপক সংস্কারের। আমাদের লক্ষ্য ক্ষমতার সাম্য রক্ষা করা, যেখানে আর কোনো স্বৈরশাসকের আবির্ভাব হবে না। এ সময় বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, দেশের পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা খুবই জরুরি। গত ১৫ বছরে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। আমাদের মূল কাজ টাকা ফেরত আনা। যেসব দেশ ও প্রতিষ্ঠান পাচার হওয়া টাকা গচ্ছিত রাখছে, তাদের কাছে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। টাকা পাচার রোধে অন্তর্জাতিক কঠোর আইনেরও দাবি জানান প্রধান উপদেষ্টা।
সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরার সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের পাচার হওয়া অবৈধ সম্পদ পুনরুদ্ধার করা বর্তমানে আমাদের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার। গত ১৫ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমরা নিরলসভাবে এ সম্পদ ফেরত আনার চেষ্টা করছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার কারণে আমাদের এ প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ‘দৃঢ় সদিচ্ছা ছাড়া’ পাচার হওয়া অবৈধ সম্পদ পুনরুদ্ধার যে সম্ভব নয়, সেই বাস্তবতা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, ‘বিশ্বের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা উন্নয়নশীল দেশ থেকে সম্পদের এই অবৈধ পাচার কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিধিবিধানগুলো বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ট্যাক্স হেভেনে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ স্থানান্তরে উৎসাহিত করছে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যেসব দেশ ও প্রতিষ্ঠান এ পাচারকৃত সম্পদ গচ্ছিত রাখার সুযোগ দিচ্ছে, তাদের আমি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন এ অপরাধের শরিক না হয় এ সম্পদ তার প্রকৃত মালিককে অর্থাৎ কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ করদাতাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। আমি উন্নয়নশীল দেশ থেকে সম্পদ পাচার রোধে কঠোর আন্তর্জাতিক বিধিবিধান প্রণয়ন এবং এর প্রয়োগ নিশ্চিতের প্রস্তাব করছি।’
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা একে একে আবিষ্কার করি দুর্নীতি ও জনগণের সম্পদ চুরি কী ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছিল এবং তার ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা কী ভয়ানক নাজুক ও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল। আমরা এর অবসান ঘটাচ্ছি যেন আর কখনোই উন্নয়নকে জনগণের সম্পদ আত্মসাতের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা না যায়। দেশের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মজবুত করতে আমরা সংস্কারমূলক কিছু কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’
রোহিঙ্গাদের প্রান্তিকীকরণের প্রক্রিয়া আর চলতে দেওয়া যাবে না : মিয়ানমারে চলমান সংঘাত সমগ্র অঞ্চলের জন্য এক গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এটি যে শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই ঝুঁকিতে ফেলছে তা নয়, বরং বাংলাদেশে আশ্রয়প্রাপ্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।’
তিনি বলেন, ‘আট বছর পার হলেও রোহিঙ্গা সংকটের কোনো সমাধান দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। উপরন্তু, বাংলাদেশ প্রতিনিয়তই মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাধ্য হচ্ছে। স্পষ্টতই, সাংস্কৃতিক পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির কারণে রোহিঙ্গাদের ওপর অধিকার বঞ্চনা ও নির্যাতন রাখাইনে অব্যাহত রয়েছে।’
‘রোহিঙ্গাদের প্রান্তিকীকরণের প্রক্রিয়া আর চলতে দেওয়া যাবে না। যেসব বৈষম্যমূলক নীতি ও কর্মকা- আজকের এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তার সমাধান এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা এখনই গ্রহণ করা সম্ভব। তার জন্য পূর্ণাঙ্গ জাতীয় রাজনৈতিক মীমাংসার অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। রাখাইনের সমস্যাগুলোর চূড়ান্তভাবে রাজনৈতিক সমাধান করাও অপরিহার্য। তবে এর জন্য রাখাইন অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট সব জাতিসত্তার অংশগ্রহণে এমন একটি বন্দোবস্ত প্রয়োজন, যেন রোহিঙ্গারা সমঅধিকার ও নাগরিকত্বসহ সমাজের অংশ হতে পারে’ বলেন তিনি।
এ সংকটের রোহিঙ্গাদের পরই বাংলাদেশ বৃহত্তম ভুক্তভোগী উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে যে, রোহিঙ্গা সংকট কোনোভাবেই মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়। আমরা শুধু একটি দায়িত্বশীল প্রতিবেশী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে আমাদের মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসছি।’
‘কিন্তু তহবিল সংকটের কারণে আজকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ন্যূনতম জীবনমান বজায় রাখার আমাদের যৌথ প্রয়াসও ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি তাদের জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে মারাত্মক তহবিল ঘাটতির বিষয়ে ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে। অবিলম্বে নতুন তহবিল না এলে, মাসিক রেশন অর্ধেকে নামিয়ে এনে মাথাপিছু মাত্র ছয় মাকিন ডলারে নামতে পারে, যা রোহিঙ্গাদের অনাহার ও অপুষ্টিতে নিমজ্জিত করবে। এতে তাদের আগ্রাসী কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে’ বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, ‘তহবিলের অতিরিক্ত কাটছাঁট হলে তা নিঃসন্দেহে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি করবে, যা ক্যাম্পের সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই আমি বিদ্যমান দাতাদের সাহায্য বাড়াতে এবং সম্ভাব্য নতুন দাতাদের অনুদান প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে এ বিপর্যয়কর পরিস্থিতি এড়ানো যায়।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘মানবিক সহায়তার জন্য নতুন ও বর্ধিত তহবিলের বাইরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই মিয়ানমার সরকার বা রাখাইনের অন্যান্য অংশীদারের ওপর ইতিবাচক পরিবর্তন ও দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে হবে। অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোকেও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাখাইনে স্থিতিশীলতা আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যেকোনো যৌথ প্রচেষ্টায় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।’
‘আমরা আশা করি, ৩০ সেপ্টেম্বরের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন বিশ্বব্যাপী দৃঢ় সংকল্প তৈরি করবে এবং রোহিঙ্গাদের জন্য বাস্তবসম্মত আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করবে, যেখানে তহবিল সংগ্রহ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিকভাবে একটি রোডম্যাপ গৃহীত হবে এবং সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে’ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ আলবেনিয়ার : বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে আলবেনিয়া। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন আলবেনিয়ার প্রেসিডেন্ট বাজরাম বেগাজ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে শ্রমশক্তির প্রয়োজন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি আলবেনীয় কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের আবেদন করেছে।’ তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে, বিশেষত পর্যটন খাতে। আলবেনিয়ার দক্ষিণ উপকূলকে সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরে দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি পর্যটকদের আমন্ত্রণ জানাই।’
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তরুণ ও উদ্যমী কর্মশক্তির কারণে বাংলাদেশ আলবেনিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে সক্ষম। তিনি আলবেনীয় সরকারকে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান। বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসার জন্য নয়াদিল্লি পর্যন্ত যেতে হয় বলেও উল্লেখ করেন।
জবাবে প্রেসিডেন্ট বেগাজ জানান, বাংলাদেশিদের জন্য ই-ভিসা চালুর বিষয়টি আলবেনিয়া বিবেচনা করছে। পাশাপাশি তিনি উচ্চপর্যায়ের সরকারি সফর বিনিময়সহ প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ চিকিৎসক-নার্স থেকে শুরু করে কারখানা ও কৃষি খাতের কর্মীসহ বহুমুখী শ্রমশক্তি সরবরাহে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট বেগাজ জানান, আলবেনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির বিদ্যমান ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজে প্রধান উপদেষ্টা : জাতিসংঘে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজে শ্রম আইন, শ্রমিকের অধিকার ও চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন কূটনীতিক, জাতিসংঘ কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা আলোচনায় অংশ নিয়ে শ্রম খাত সংস্কার অব্যাহত রাখার প্রতি ঐকমত্য প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, বৃহৎ পরিসরে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য শ্রম সংস্কার অপরিহার্য। তিনি ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আইএলও মহাপরিচালক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা শ্রম খাত সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির উন্নতির সম্ভাবনা তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের আগে রাজনৈতিক নেতাদের সংক্ষিপ্ত মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পোশাকশিল্পকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যৎ সরকার যেই হোক, খাতটির প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই হবে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম সংস্কার প্রচেষ্টাকেও স্বীকার করেন।
জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানান, তাদের দলের অনেক নেতার সরাসরি অভিজ্ঞতা রয়েছে পোশাকশিল্পে কাজ করার। এ অভিজ্ঞতা খাতটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। তিনি সরকারের সংস্কার পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে ভবিষ্যতে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর বলেন, বর্তমান সংস্কার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন।
তিন নেতার বক্তব্যেই অভিন্নভাবে উঠে আসে পোশাক রপ্তানিতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি। তাদের অভিমত সবসময় ক্রেতাদের শর্তে নয়, বরং ন্যায্যতার ভিত্তিতে দাম নির্ধারিত হওয়া উচিত। এ বিষয়ে সর্বদলীয় সমর্থন দেখা যায়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা ডা. তাসনিম জারা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় তিনি মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসেবে আহতদের সেবা দেন। তিনি বলেন, ‘সে ঘটনাই আমার রাজনৈতিক চিন্তা গড়ে দিয়েছে।’ ডা. জারা শ্রম নিরাপত্তার মানবিক দিক ও সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ইউনূস শ্রম খাত সংস্কারকে অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন ও শ্রমিকের কল্যাণে অপরিহার্য উল্লেখ করে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
