খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের প্রতিবাদ ঘিরে সংঘাত

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:০৭ এএম

স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে ডাকা সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর থেকে জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ সমর্থক ও ‘সেটেলারদের’ মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হলেও রাত ৯টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল শুরু হয়নি।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জেলা সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে অষ্টম শ্রেণির এক মারমা স্কুলছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়।

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে শনিবার সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। অবরোধের সময় দুপুরে জেলা সদরের উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবরোধ সমর্থক ও বাঙালি সেটেলারদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। ঘটনার সময় একটি মসজিদের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি এ হামলার বিষয় অস্বীকার করেন। এ ঘটনার প্রভাবে বিকেলে শহরের মহাজনপাড়া, চেঙ্গী স্কয়ার ও নারিকেল বাগান এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে পুনরায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। দুর্বৃত্তরা বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি সহিংস হলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় গতকাল দুপুর ২টা থেকে খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও সদর উপজেলায় এবং বেলা ৩টায় গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার এ আদেশ জারি করেন, যা নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

অবরোধ চলাকালে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ কেটে সড়কে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। আলুটিলা এলাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

অবরোধ ও সংঘাতের কারণে পর্যটকরা দুর্ভোগে পড়ে; সাজেক থেকে ফেরার পথে অনেকে সড়কে আটকা পড়ে।

এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও জনমনে আতঙ্ক রয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সাত প্লাটুন বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে, মহাজনপাড়ায় পাহাড়িদের দোকানে হামলা-ভাঙচুর ও দুই ধর্ষককে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে জুম্ম ছাত্র-জনতা অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ ডেকেছে।

ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করেন। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সন্দেহভাজন যুবক শয়ন শীলকে আটক করে পুলিশ। তিনি বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।

খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল জানান, অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা প্রশমনে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত