শেরপুর শহরের নয়আনী বাজারের মা ভবতারা কালি মন্দির চত্বরে নির্মাণ করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী পূজা মণ্ডপ। পাখি সুরক্ষা ও পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে ব্যতিক্রমী দুর্গামণ্ডপ সাজিয়েছে শেরপুরের স্থানীয় মার্চেন্ট ক্লাব।
জানা যায়, প্রতিবছরই ভিন্ন থিম ও বৈচিএের ওপর ভিত্তি করে শহরের নয়আনী বাজারের সনাতন ব্যবসায়ীদের নিয়ে গড়া মার্চেন্ট ক্লাব শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করে আসছে। মার্চেন্ট ক্লাবের সার্বজনীন দুর্গাপূজাটি এবার ৫২ বছর অতিক্রম করেছে। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারের পূজামণ্ডপটি পাখি সুরক্ষা এবং পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণ রক্ষার বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে। মণ্ডপে প্রবেশের পথে পাখির পালকের মোটিফ তৈরি করা হয়েছে। নারকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি বাবুই পাখির বাসার আদলে ভারতীয় স্টাইলে নির্মিত দেবী দুর্গাসহ মণ্ডপের প্রতিমাগুলোকে বসানো হয়েছে। পরিত্যক্ত বাক্স, কাঠের গুড়া আর কার্টনের কাগজে পূজা মণ্ডপে তৈরি করা হয়েছে অনেকগুলো পাখির বাসা। সেখানে কাগজে তৈরি করা হয়েছে বাসায় আশ্রয় নেওয়া এবং উড়ে বেড়ানো শত শত পাখির মোটিফ। যে কেউ একনজর দেখলেই হৃদয়ে আনমনে দোলা দিয়ে ওঠবে পাখির কিচির-মিচির শব্দের মিতালী। পূজামণ্ডপকে ঘিরে বর্ণিল আলোকসজ্জা ও রাত্রিকালীন বিনোদনে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় গৌড় মালাকার ও নিতাই মালাকার নামে প্রতিমা কারিগর দুই ভাই ব্যতিক্রমী দুর্গামণ্ডপটি তৈরি করেছেন। মণ্ডপের সকল প্রতিমা এবং সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে পরিত্যক্ত বাক্স, কার্টন বাক্সের কাগজ, নারকেলের ছোবড়া, পাট, কাঠের গুড়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব উপাদান। মণ্ডপের সাজসজ্জায় পাখির পালকে দেবীপক্ষের আগমনের বিষয়টির প্রতীকী অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব উপাদানে তৈরি প্রতিমায় এবার শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে যাচ্ছে অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
শহরের নয়আনী মা ভবতারা কালীমন্দির চত্বরে স্থাপিত এ পূজামন্ডপটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মহালয়ার পর থেকে পুণ্যার্থী ও সাধারণ মানুষ পূজামণ্ডপটি এক নজর দেখার জন্য কালীমন্দিরে ভিড় করছেন।
শিল্পী নিতাই মালাকার বলেন, প্রকৃতি হলো আমাদের ‘মা’। মা-তো স্বয়ং দেবী। তাইতো এবার আমরা দুর্গাপূজার থিমটা করেছি পাখি সংরক্ষণ। বনায়ন বাঁচাও, পাখি সংরক্ষণ করো। এর ফলে প্রকৃতির যে ভারসাম্য সেটা যেন রক্ষা হয়। এই দুর্গামণ্ডপটি তৈরি করতে আমাদের প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লেগেছে এবং খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো।
মার্চেন্ট ক্লাবের সদস্যরা বলেন, পাখি আজ বিলুপ্তির পথে। নগর সভ্যতার কারণে পাখির আবাসস্থল আমরা নিজেরাই নষ্ট করে ফেলেছি। পাখির আবাসস্থল রক্ষার জন্য আমার-আপনার সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের এই পাখিকে, পাখির আবাসস্থলকে, প্রকৃতিকে রক্ষা করার থিম নিয়ে আমরা এবার আমাদের পূজামণ্ডপকে সাজিয়েছি।
শেরপুর পূজা উৎযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব শুভ্রত কুমার দে বলেন, মার্চেন্ট ক্লাব বরাবরই তাদের পূজামণ্ডপটি আকর্ষণীয় ও আলাদা কিছু করতে চেষ্টা করে। তবে এবার পাখি ও পাখির আবাসস্থল সুরক্ষা এবং প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দিয়ে পূজামণ্ডপটি তৈরি করায় ভিন্নমাত্রা পেয়েছে।
সরকারবিরোধী বি*ক্ষো*ভে উত্তাল বিশ্ব, পেরুতে সরকার পতনের বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক খোকনের বহিষ্কার দাবি
শেখ হাসিনা ভারতে আছে ক্রীতদাসের মতো: দুদু