জুলাই-আগস্টে গণহত্যা

নৃশংসতার ভিডিও দেখানো হলো ট্রাইব্যুনালে

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:০০ এএম

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ব্যাপক হত্যাকা-, নির্যাতনসহ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ভিডিও দেখানো হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। গতকাল রবিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনালে তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের দেওয়া ১৭টি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এদিন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ৫৪তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আলমগীর। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শেষ সাক্ষী আলমগীর। গতকাল তার জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় অসমাপ্ত জবানবন্দির জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল। এদিকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রয়াত লেখক-গবেষক বদরুদ্দীন উমরের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে প্রসিকিউশন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।

গতকাল শুনানির শুরুতে ট্রাইব্যুনালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি ডকুমেন্টারি দেখানো হয়। এরপর গত বছরের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার সেই আলোচিত সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও দেখানো হয়।  শেখ হাসিনার ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ মন্তব্যের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং ছাত্রলীগের হামলা, রংপুরে আবু সাঈদের ওপর পুলিশের গুলির দৃশ্য দেখানো হয়। এ ছাড়া র‌্যাবের হেলিকপ্টার থেকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে গুলি করার ভিডিও দেখানো হয়। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আসাদুজ্জামানকে দেখানো (গুলি করি মরে একটা, বাকিগুলো যায় না) ভিডিও, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলেকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা, একই এলাকায়  খোকন চন্দ্র বর্মণকে গুলি করে মুখম-ল বিকৃত করে দেওয়া, সাভারে এক শিক্ষার্থীকে এপিএস থেকে সড়কে ফেলে দেওয়া, আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানো, রাজধানীর চানখাঁরপুলে আন্দোলনকারীদের গুলি করে হত্যা, রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা একজনকে গুলি করা এবং গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে কয়েকজনকে গুলি করে হত্যার ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে ভিডিও দেখানোর সময় উপস্থিত অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেককে চোখ মুছতে দেখা যায়।

একপর্যায়ে জবানবন্দিতে তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর বলেন, আন্দোলন দমনে আদেশ, নির্দেশ ও উস্কানিমূলক বিবৃতি, লেখনী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট ও মন্তব্য পর্যালোচনা, আন্দোলনে শহীদ ব্যক্তিদের পরিবার, আন্দোলনে আহত জুলাই  যোদ্ধাসহ সাক্ষীদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করাসহ পত্রপত্রিকা, ভিডিও ফুটেজসহ আলামত জব্দ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত