ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যালট ছাপানোর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্ভূত বিতর্কের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন ব্যাখ্যা দিয়েছে। নীলক্ষেতে শুধু প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পাঁচ ধাপের কঠোর সুরক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যালটগুলো ভোটের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া নীলক্ষেতের কোনো দোকানে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। ফলে ব্যালট ছাপানোর স্থান বা সংখ্যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করে না বলে জানিয়েছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশন।
গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের জন্য ব্যালট ছাপানোর দায়িত্ব একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল। রেকর্ডসংখ্যক ভোটার ও প্রার্থীর কারণে দ্রুত ব্যালট প্রস্তুতির জন্য মূল ভেন্ডরের সঙ্গে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডারের আওতায় যুক্ত করা হয়। তবে, সহযোগী ভেন্ডর নীলক্ষেতে ২২ রিম কাগজে ৮৮ হাজার ব্যালট ছাপার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করেনি, যা বিতর্কের সূত্রপাত ঘটায়। এ ঘটনায় ভেন্ডরকে শোকজ করা হয়েছে এবং তারা ক্ষমা চেয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে।
উপাচার্য জানান, নীলক্ষেতে শুধু প্রাথমিক ছাপানো ও কাটিংয়ের কাজ হয়েছে। এরপর ব্যালটগুলো সহযোগী ভেন্ডরের মূল কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে প্রি-স্ক্যান ও সিলগালাকরণের কাজ সম্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় ৮৬ হাজার ২৪৩টি ব্যালট সরবরাহযোগ্য করা হয় এবং অতিরিক্ত ব্যালট প্রচলিত পদ্ধতিতে নষ্ট করা হয়। ভেন্ডর জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ব্যালট প্রস্তুতি ও পরিবহনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যস্ততার কারণে নীলক্ষেতে প্রাথমিক কাজের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাতে ভুলে যাওয়ার জন্য তারা ক্ষমা চেয়েছে।
অধ্যাপক নিয়াজ ব্যাখ্যা করেন, ব্যালট প্রস্তুতির জন্য পাঁচ থেকে ছয় ধাপের সুরক্ষা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ব্যালট ছাপানো ও নির্দিষ্ট পরিমাপে কাটিং করা হয়। এরপর সুরক্ষা কোড আরোপ করে ওএমআর মেশিনে প্রি-স্ক্যানের মাধ্যমে ব্যালটগুলো মেশিনে পাঠযোগ্য করা হয়। শেষে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ সিলমোহরের মাধ্যমে ব্যালট ভোটের জন্য উপযুক্ত করা হয়। উপাচার্য জোর দিয়ে বলেন, এই জটিল সুরক্ষা প্রক্রিয়া নীলক্ষেতের কোনো দোকানে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। নীলক্ষেতে শুধু প্রাথমিক কাজ হয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রক্রিয়া ভেন্ডরের কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৪টি ব্যালট ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন ভোটারের মধ্যে ২৯ হাজার ৮২১ জন ভোট দিয়েছেন, এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৬টি ব্যালট ব্যবহৃত হয়েছে। অবশিষ্ট ৬০ হাজার ৩১৮টি ব্যালট সংরক্ষিত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও জানায়, প্রার্থীরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভোটারদের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়া কর্তৃপক্ষের মনোনীত বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হবে। উপাচার্য বলেন, ব্যালট ছাপানোর স্থান বা সংখ্যা নির্বাচনের সুষ্ঠুতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। পাঁচ ধাপের সুরক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যালট প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরাপদ ছিল।
