রবিবারেই দফারফায় যেতে চায় ঐকমত্য কমিশন

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪৫ এএম

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও আগামী জাতীয় নির্বাচন কী প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতে পারে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে কিছুতেই সরছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের দুটি সুপারিশ গুরুত্ব দিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে চায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

দলগুলোর মতামত যতটা সম্ভব আমলে নিয়ে তার সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ গুরুত্ব দিয়ে কমিশন তার প্রতিবেদন শিগগিরই অন্তর্বর্তী সরকারকে দেবে, এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কমিশন।

ঐকমত্য কমিশনের ভেতরকার তথ্য অনুযায়ী, সংবিধান আদেশ জারিসহ কতিপয় বিষয়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের অভিমত বা উপদেশ গ্রহণ এবং গণভোটের জন্য কমিশন সুপারিশ করতে পারে। কমিশন দ্বিতীয় বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ একই সঙ্গে ও গণপরিষদ বা সংবিধান সংস্কার সভার দায়িত্ব পালন করবে, এমনটাও হতে বলতে পারে। এ ক্ষেত্রে আগামী জাতীয় সংসদ মেয়াদের শুরুতে সনদের সাংবিধানিক সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান করবে।

ঐকমত্য কমিশনের একাধিক সদস্য অনানুষ্ঠানিকভাবে গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সাক্ষাৎ করে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সুপারিশের কথা জানান।

আগামী রবিবার অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত মতামত তুলে ধরে ঐকমত্য কমিশন নিজের কার্যক্রমের সমাপ্তি টানতে পারে, এমন সম্ভাবনাও আছে। এরপর সনদ নিয়ে দলগুলোর ভেতর ব্যবধান থাক বা না থাক, তা নিয়ে কমিশন আর কোনো পদক্ষেপ নাও নিতে পারে। এ বৈঠক কমিশনের শেষ বৈঠকও হতে পারে, এমনটা মনে করেন এক সদস্য। ওই সদস্য আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের বিশাল ব্যবধান এখন সবার কাছে বিরক্তির ব্যাপার হয়ে উঠেছে। তাই কমিশন রবিবারই বিষয়টির সমাপ্তি টানতে চায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের অন্যতম সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা দূর করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। সব দলই নিজের স্বার্থ দেখছে।’ তিনি বলেন, এ মুহূর্তে কমিশন বিশেষজ্ঞ মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মতামত সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করা হয়েছে।

বদিউল আলম আশা প্রকাশ করেন, আগামী রবিবার অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে সনদ বাস্তবায়নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। সরকার আবার না বাড়ালে কমিশনের মেয়াদ ১৫ অক্টোবর শেষ হতে পারে।

এর আগে গত শুক্রবার রাতে কমিশনের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা দুটি সুপারিশ সরকারকে দিতে বলেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমএ মতিন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. শরিফ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন ও ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক এ বৈঠকে ছিলেন। কমিশনের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৈঠক করে কমিশন। সেখানে জুলাই সনদের সংবিধান সম্পর্কিত বিষয়গুলো সংবিধান আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে সুপারিশ করার কথা কমিশন জানায়। আর জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের মাধ্যমে সনদের বিষয়ে জনগণের রায় নেওয়ার কথাও বলা হয়। কয়েকটি দল সেদিন সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের অভিমত বা উপদেশ গ্রহণের জন্য সুপারিশ করে।

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আসা এ প্রস্তাব নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। সেখানে সংবিধান আদেশ এবং গণভোটের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের অভিমত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এক বিশেষজ্ঞ বলেন, একাধিক রাজনৈতিক দল যেহেতু ১০৬ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের মতামত নিতে চাচ্ছে, তা একটি অপশন হিসেবে দেওয়া যেতেই পারে। এ ক্ষেত্রে সংবিধান আদেশ ও গণভোটের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়ার বিষয়টি থাকবে।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে কমিশনকে সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে একাধিক বিকল্প দিতে বলা হয়েছে। সেজন্য চিন্তা করা হচ্ছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদ একই সঙ্গে গণপরিষদ বা সংবিধান সংস্কার সভার কাজ করতে পারে কি না, তাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত