শেয়ারবাজারের সম্ভাবনা নিহিত যোগ্য নেতৃত্বে

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০৫ এএম

যোগ্য নেতৃত্বের মধ্যেই শেয়ারবাজারের সম্ভাবনা বা স্থিতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন। তার মতে, সৎ, যোগ্য রেলিভেন্ট (উপযুক্ত) ব্যক্তিদের মাধ্যমে স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিষয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

গতকাল শনিবার ঢাকায় এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১০ বছরে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ডিএসইর পরিচালক বলেন, ‘আমাদের এখানে কমপক্ষে ৫০০ কোম্পানি রয়েছে, যারা লিস্টেড হওয়ার উপযোগী। স্কয়ার, ভিয়ালা টেক্স, স্পারোসহ অনেক কোম্পানি রয়েছে, যারা পুঁজিবাজারে আসবে না। সে কমিশনে গিয়ে এডি আর ডিডির কাছে গিয়ে হাত-পা ধরে বসে থাকবে? ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট তারে সকাল-বিকেল লাথি-উষ্ঠা মারবে, সে যাবে? সাংবাদিকরা প্রতিদিন গুঁতাবে, এনবিআরের অনেক নিয়ম। এতসবের মধ্যে সে কেন যাবে পুঁজিবাজারে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘পদে পদে, ঘাটে ঘাটে আপনি যন্ত্রণা দিয়ে রেখেছেন, পদে পদে হয়রানি করার সব মেকানিজম করে রেখেছেন, পদে পদে বিনিয়োগকারীদের হয়রানি করার সব সিস্টেম করে রেখেছেন। আপনি দুষ্টের পালন আর শিষ্টের দমনের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। চ্যালেঞ্জগুলো যদি মোকাবিলা করতে না পারে, এই শেয়ারবাজার কখনোই সামনে এগোবে না। এত অন্যায় নিয়ে শেয়ারবাজার কীভাবে চলবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকায় স্টক এক্সচেঞ্জের চিন্তা করে লাভ নেই, আমাদের বদলাতে পারবেন না। আমাদের চেঞ্জ করতে পারবে কমিশন। কমিশন ঠিক থাকলে আমরা এমনিতেই ঠিক থাকব। আমাদের হাত-পা বাঁধা। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নেতৃত্বেই পুঁজিবাজারের সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে চ্যালেঞ্জের পথ পেরিয়ে যেতে হবে।’

মিনহাজ মান্নান বলেন, ‘সংবিধান বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা রাখেনি। সাংবিধানিকভাবে বিনিয়োগকারীরা উপেক্ষিত।’

অর্থনীতির মূল গতি থেকে শেয়ারবাজার বিচ্ছিন্ন উল্লেখ করে ডিএসই পরিচালক বলেন, ‘কোনো খারাপ সংবাদ এলে বিনিয়োগকারী মন খারাপ করে শেয়ার বিক্রি করে দেন। কিন্তু ভালো সংবাদে বাজার (লেনদেন) বাড়ে না কেন? আমরা শেয়ারবাজারের সঙ্গে রিলেটেড (অন্তর্ভুক্ত) না। পুঁজিবাজারকে আমরা মূল স্রোতোধারার সঙ্গে কখনো রিলেটেড করতে পারিনি। প্রকৃত শেয়ারবাজারের ব্যাপ্তি যদি বুঝতে চান, উন্নত বিশ্বে যেতে হবে। সেসব দেশের জিডিপির চেয়ে শেয়ারবাজারের আকার বড়। কাজেই জিডিপি থেকে মার্কেটকে বড় হতে হবে। আমাদের শেয়ারবাজার এত ছোট যে স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক হয়েও গল্প করার সময় আমাদের আছে। প্রকৃত শেয়ারবাজার বাংলাদেশের জিডিপির কনটেক্সে যদি তুলনা করি, আমাদের শেয়ারবাজার থাকা উচিত এক বা দেড় ট্রিলিয়ন ডলার। তার মানে আমাদের দেশের পুঁজিবাজার প্রকৃত অর্থে কোনো পুঁজিবাজার নয়।’

কেন আমরা প্রকৃত অর্থে শেয়ারবাজার করতে পারিনি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজারকে যদি অর্থনীতির মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারতাম, যদি মনে করতাম ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে এটি অর্থনীতির টাকা জোগানোর একটা মাধ্যম, তাহলে এটার গুরুত্ব আমরা বুঝতাম। আমরা যে কমিশন তৈরি করেছি, সেখানে রেলিভেন্ট লোক দিতাম। যারা কমিশনার থাকবেন, তারা শিক্ষক থাকুক বা মুদি দোকানের মালিক হয়ে আসুক বা মসজিদের ইমাম হোক, কোনো বিষয় না, সেই লোকটা এটি (পুঁজিবাজার) অর্থনীতির চালিকাশক্তি তা বোঝে কি না, শেয়ারবাজারে ইকোসিস্টেমটা সে বোঝে কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত