জামায়াতের ভূমিকা কী জানতে চায় জাতি

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জামায়াত যাদের নিয়ে আন্দোলন করছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা জাতি জানতে চায়।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সংগঠন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

‘হীন রাজনীতি’ পরিহার করে দেশের স্বার্থে সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বিএনপি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের অভিসন্ধির কাছে মাথা নত করবে না। রাষ্ট্র কোনো খেলার বিষয় নয়। ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ে আমরা তামাশা করতে পারি না। এই রাষ্ট্রকে একটি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের অভিসন্ধির কাছে আমরা কখনো নতি স্বীকার করব না। এ দেশের জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মালিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তনের অধিকার কারও নেই। এমনটা হলে আগামী দুই বা পাঁচ বছর পর বারবার সংবিধান পরিবর্তনের দাবি উঠবে।’

গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা যখন বৈধ প্রক্রিয়ার কথা বলি, তখন কেউ কেউ বলেন, জনগণের অভিপ্রায়ই চূড়ান্ত। হ্যাঁ, জনগণের অভিপ্রায় চূড়ান্ত। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তাদের অভিপ্রায় প্রকাশ করেছে। এই অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা সঠিক। কিন্তু এই অভিপ্রায় বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হতে হয়েছে, আর্টিকেল ১০৬-এর আশ্রয় নিতে হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে আমরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন দেখেছি এবং উপদেষ্টাদের শপথ গ্রহণ দেখেছি। আমরা এটিকে বৈধ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করি।’

সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি (পিআর) প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫৬ শতাংশ মানুষ যে পিআর পদ্ধতি বোঝেই না, সেই পদ্ধতি কি আমরা চাইতে পারি? তাই এসব কথা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। যারা হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জাতীয় ও জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে, তাদের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানাই।’

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অস্থিরতা সৃষ্টি, বিলম্ব এবং বানচাল করার জন্য একটি শক্তি কাজ করছে এবং তাদের পক্ষে একটি রাজনৈতিক দল কাজ করছে। বাংলাদেশে নির্বাচন বিলম্বিত হলে ফ্যাসিবাদ আবার মাথাচাড়া দেবে। এখন কথা উঠছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ভিত্তিতে নাকি আগামী নির্বাচন হবে। জাতীয় ঐক্য কমিশনের মাধ্যমে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের অংশটুকু বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী সংসদের প্রয়োজন। সংবিধান সংশোধনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব পরবর্তী জাতীয় সংসদের ওপরই ন্যস্ত করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল হারুনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণদলের সভাপতি এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত